জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, দিল্লিতে বাড়ল উত্তাপ

Imge: ANI

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের বিক্ষোভ অব্যাহত। রবিবারও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। একই সঙ্গে তিন মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা। দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের বিক্ষোভ হবে। সারা দেশের তরুণ প্রজন্মকে ওই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। রবিবার যন্তর মন্তরমুখী দুটি মিছিলের কর্মসূচি থাকায় টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড ও সংসদ মার্গ-সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং আধাসামরিক বাহিনী মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল বলে দাবি।

মিছিল শুরুর আগেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে বামপন্থী সংগঠনগুলিও তাতে যোগ দেয়। তিন মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগ, শনিবার যন্তর মন্তরে খবর সংগ্রহের সময় দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার বিবেক ভগত তাঁদের যৌন হেনস্থা করেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়ে থানায় যান সংগঠনের সৌরভ দাস এবং সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত। অভিযোগ, পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত আধিকারিককে আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে।


এদিকে, জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া গেটের দিকে মিছিল করে আম আদমি পার্টির কর্মীরা। দলের নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকে আটক করা হয়। ছাত্র সংগঠন আইসা এবং কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনও বিক্ষোভে যোগ দেয়। অশোক রোডের কাছে আন্দোলনের সময় আইসার জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। স্বাধীন সাংবাদিক রোজ়িকেও আটক করে পুলিশ। পরে নেহা, রোজি-সহ আটক হওয়া অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মহিলা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা অভিযোগ করেন, যাঁদের মহিলাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, তাঁদের বিরুদ্ধেই অসুরক্ষার পরিবেশ তৈরির অভিযোগ উঠছে। অন্যদিকে, জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে মহারাষ্ট্রেও বিক্ষোভ হয়। মুম্বাইয়ে উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরের নেতৃত্বে মিছিল থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও অভিযোগ তোলেন রাজ ঠাকরে।