পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলছে। সোমবার আমেরিকা ও ইরান শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে। তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই সমঝোতা চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাত থামাতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে নৌ-চলাচল ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনবে।
এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়ে মোদী লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে ইরান এবং আমেরিকা রাজি হয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এই যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বে আর্থিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভারত আশা করছে, এই চুক্তি শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। সমুদ্রপথে চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছি। আশা করি আগামী দিনে যাবতীয় সমস্যা মিটবে।’
দীর্ঘ ১০০ দিনের ইরান-আমেরিকা সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত মিলতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের অবস্থান। কারণ এই যুদ্ধ শুধু পশ্চিম এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর সরাসরি ধাক্কা লেগেছিল ভারতের জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের খরচে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর লক্ষ্য ধীরে ধীরে সংঘাত থামানো এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালীতে আবার স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহণ হয়। তাই এর প্রভাব সরাসরি পড়ে ভারত-সহ বহু দেশের উপরে।
ভারতের জন্য এই শান্তি চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের সময়ে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধা পাওয়ায় ভারতের জ্বালানি আমদানি মারাত্মক চাপের মুখে পড়ে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বাজারে। পেট্রল, ডিজেল, সিএনজি এবং রান্নার গ্যাসের দাম দফায় দফায় বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচও তখন দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষ চলাকালীন আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় নাবিকদের উপরে হামলার ঘটনাও ঘটেও। প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতির তৈরি হয়। ফলে এই চুক্তি ভারতের জন্য শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, মানবিক দিক থেকেও স্বস্তির বার্তা।
সূত্রের খবর, এই শান্তি প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এই মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা আগামী ২ মাস ধরে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে ভারতের জ্বালানি বাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও নিয়ন্ত্রণে আসার সুযোগ তৈরি হবে। শান্তি চুক্তির পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বাগত বার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই সমঝোতা দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে স্বস্তি ফেরাতে পারে।