আজ এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে মোদী, ২০ সাংসদকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

Image: IANS

এনসিপিআইকে ঘিরে ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা। তৃণমূল (TMC) ছেড়ে আসা ২০ জন সাংসদের নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন দিল্লির রাজনীতিতে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁদের বৈঠক ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

আজ সকালে লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) বাসভবনে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে বসতে চলেছেন মোদী (Narendra Modi)। সেখানে সংসদের অধিবেশনে তাঁদের ভূমিকা, এনডিএ (NDA)-র সঙ্গে সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বৈঠক দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করা হচ্ছে।

 
যদিও এখনও পর্যন্ত এনসিপিআইয়ের (NCPI) বিজেপিতে (BJP) মিশে যাওয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিবিধি সেই সম্ভাবনাকে ঘিরে জল্পনা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে তৃণমূল ছেড়ে আসা সাংসদদের এনডিএর (NDA) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এর আগে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদরা এনডিএর (NDA) সংসদীয় বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 
 
ঘটনার সূত্রপাত ২০ জন সাংসদের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছাড়ার পর। দলত্যাগের পরই দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla)  সঙ্গে দেখা করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়(Sudip Banerjee)-সহ এনসিপিআই (NCPI) সাংসদরা। তাঁরা নিজেদের এনসিপিআই  (NCPI) সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন, তাঁদের এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং এনডিএর শরিক হিসেবে সংসদে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হোক।

আরও পড়ুন: আজ ‘তেরঙ্গা যাত্রায়’ মুখ্যমন্ত্রী, নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাতে ঋতব্রত
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ২০ জন সাংসদকে নিয়ে এনডিএ (NDA)-র অঙ্কে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ, বর্তমান শরিক দলগুলির মধ্যে কোনও দলের কাছেই এত সংখ্যক সাংসদ নেই। ফলে এনসিপিআই যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ(NDA)-র অংশ হয়, তাহলে সংখ্যার বিচারে তারাই জোটের অন্যতম বড় শরিক হয়ে উঠবে। 
 
অপেক্ষা ছিল, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই লোকসভার স্পিকার (Om Birla) তাঁদের স্বীকৃতি দেন কি না। সেই আবহেই ১৯ জুলাই, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু(Kiren Rijiju) এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের সর্বদল বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই বৈঠকে অংশও নেন এনসিপিআই  (NCPI) সাংসদরা। এরপর থেকেই এনডিএর (NDA) সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও জোরালো হয়। 
 
তবে সব সাংসদ একই অবস্থানে রয়েছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবারের বৈঠকে ২০ জন সাংসদই উপস্থিত থাকবেন, এমন নিশ্চয়তার কথাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan) উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকলেও খলিলুর রহমান ও আবু তাহের বৈঠকে যোগ দেবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। কারণ, এনডিএর সাম্প্রতিক বৈঠকেও ওই তিন সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
 
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan), খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) এবং আবু তাহের (Abu Taher Khan)কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে দেখা করেন। যদিও তাঁদের দাবি, নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই এই সাক্ষাৎ। তবে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
 

আরও পড়ুন: ফোনে মোদী-নেতানিয়াহু, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া নিয়েও আলোচনা


এনসিপিআইয়ের (NCPI) সঙ্গে বিজেপির (BJP) সম্পর্ক নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — তারা কি শুধু এনডিএর শরিক হিসেবেই থাকবে, নাকি আগামী দিনে বিজেপির (BJP)  সঙ্গে সম্পূর্ণ একীভূত হওয়ার পথে হাঁটবে ?  বিজেপির সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এখনও কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আপাতত এনডিএ (NDA)-র শরিক হিসেবেই নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাইতে পারে এনসিপিআই (NCPI)। আবার অন্য একটি অংশের মতে, বিজেপি (BJP) যদি সাংগঠনিকভাবে এই সাংসদদের দলে টানতে চায়, তবে আগামীদিনে সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠককে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ২০ জন সাংসদ যদি স্থায়ীভাবে এনডিএ(NDA)-র অংশ হয়ে যান, তা হলে লোকসভায় শাসক জোটের সংখ্যার অঙ্ক আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে জোট রাজনীতির যুগে প্রতিটি সাংসদের সমর্থনই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এনডিএর শরিক থাকা আর সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়া — এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

 

দেখুন: সৃজিতের সুরে নয়া চমক, নতুন ছবির প্লেব্যাকে অনির্বাণ

২০ জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআইয়ের (NCPI) অবস্থান শুধু একটি দলের ভবিষ্যৎ নয়, লোকসভায় শাসক জোটের শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন সবার নজর আজকের প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক ঘিরে। নডিএ (NDA)-র সহযোগী হিসেবেই তারা থাকবে, নাকি গেরুয়া শিবিরে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস হবে — দিল্লির রাজনীতিতে আপাতত সেটাই সবচেয়ে বড় জল্পনা।