অশান্তি পিছু ছা়ড়ছে না মণিপুরের। গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতির শাসনের অবসান হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন সরকার। বদলেছে মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মণিপুর যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষে রবিবার রাত থেকে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে মণিপুরের উখরুল জেলা। একাধিক বাড়ি ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার সকালেও জেলার পরিস্থিতি ছিল থমথমে। কার্যত বন্ধের চেহারা নিয়েছে উখরুল জেলার একাংশে। ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রপতির শাসন তুলে লাভ কী হল?
জানা গিয়েছে, রবিবার উখরুল জেলায় নাগা জনগোষ্ঠীর এক যুবকের উপর হামলা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায়। সন্ধ্যা থেকে নাগা এবং কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ ওঠে, কুকি জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহীরাই ওই যুবকের উপর হামলা চালিয়েছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় জেলায়। জেলার বিভিন্ন জায়গায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবারই উখরুল জেলার লিটন গ্রামে অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। একাধিক জায়গায় উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানরা। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রবিবার মাঝে মধ্যেই গুলির শব্দ পাওয়া গিয়েছে। তবে নিরাপত্তাবাহিনী নাকি, বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর লোকজন, কারা এই গুলি চালিয়েছে তা জানা যায়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন। উখরুল জেলাপ্রশাসন এক নির্দেশিকায় জানায়, অশান্ত এলালায় কেউ নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়। পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে জেলাপ্রশাসন। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও রবিবার মধ্যরাতে নতুন করে অশান্তি ছড়ায়। হঠাৎই নাগা জনগোষ্ঠীর একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় অভিযোগের তির কুকি বিদ্রোহীদের দিকে। এরই পাল্টা কুকি জনগোষ্ঠীরও বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ। সোমবার সকালেও এলাকা ছিল থমথমে। রাস্তাঘাটে তেমন লোকজন ছিল না। অধিকাংশ দোকানপাট ছিল বন্ধ। স্কুল, কলেজ খোলা থাকলেও ছাত্র উপস্থিতির হার ছিল নগণ্য। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবারও উখরুল জেলার একাংশে উত্তেজনা রয়েছে।
রবিবার রাতের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রবিবার রাতের তাণ্ডবের কিছু ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন সশস্ত্র ব্যক্তি একের এক বাড়ি এবং গাড়িতে আগুন ধরাচ্ছে। এমনকী, তাদের শূন্যে গুলি চালাতেও দেখা গিয়েছে। তাঁদের। তবে ওই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখেনি দৈনিক স্টেটসম্যান।