কেরল, ২০ সেপ্টেম্বর: কোরান মুসলিমদের একের বেশি বিয়ে অনুমতি দিলেও আদালতে তা সব সময় গ্রহণযোগ্য নয়। একাধিক স্ত্রীর ভরণপোষণের সামর্থ্য না থাকলে মুসলিম পুরুষও একাধিক বিয়ে করতে পারবে না, সাফ জানাল কেরল হাইকোর্ট। কেরলের ৩৯ বছর বয়সী পেরিনথালমান্নার বাসিন্দা এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মহিলা তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী। মহিলার দাবি, স্বামী তাঁকে কোনওরকম ভরণপোষণ দেন না। মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা ভরণপোষণ দেওয়ার আর্জি জানান ওই মহিলা।
জানা গিয়েছে, মহিলার স্বামী পেশায় ভিক্ষাজীবী। তাঁর দিন গুজরান হয় ভিক্ষাবৃত্তি করে। এই কারণে বিচারপতি পি ভি কুন্নিকৃষ্ণন ওই মহিলার ভরণপোষণের আর্জি খারিজ করেন। তিনি বলেন, ‘ভিখারীর বাটিতে আর কী হাত দেবেন!’
সেই সঙ্গে মহিলার স্বামীকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। বিচারপতি পি ভি কুন্নিকৃষ্ণণ বলেন, ‘উনি ধোঁয়া তুলসীপাতা নন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে হুমকি দিচ্ছেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তৃতীয়বার বিয়ে করে নেবেন।’ বিচারপতি আরও বলেন,’আইন এই ধরনের বিয়ে মেনে নিতে পারে না। এক্ষেত্রে শরিয়তি আইনের আড়ালে অন্যায় করছেন ওই ভিক্ষুক। কোরানেও বলা আছে, মুসলিম পুরুষের সামর্থ্য থাকলে তবেই তিনি একাধিক বিয়ে করতে পারেন। সামর্থ্য না থাকলে একধিক বিয়ে গ্রহণযোগ্য নয়।’
প্রসঙ্গত, কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার আগে ওই মহিলা একটি পারিবারিক আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেখানে মহিলার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালত জানায়, আবেদনকারী মহিলার ৪৬ বছর বয়সী স্বামী ভিক্ষা করে জীবনধারণ করেন। ফলে তাঁকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে না।
এরপরই কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহিলা। ভরণপোষণের আর্জি খারিজ করা হলেও কেরল হাইকোর্ট ওই মুসলিম ভিখারিকে তীব্র ভর্ৎসনা করে। কেরল হাইকোর্টে বলা হয়, কোরানও বহুগামিতা সমর্থন করে না। কোরানে বলা হয়েছে, একজন মুসলিম তখনই একাধিক বিয়ে করবেন, যখন তিনি প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী, তৃতীয় স্ত্রী এবং চতুর্থ স্ত্রী– সবাইকে সমানভাবে সুবিচার দিতে পারবেন। তাছাড়া মুসলিম সমাজের বেশিরভাগ মানুষই একটা মাত্র বিয়ে করেন। তাই সামর্থ্য না থাকলে মুসলিমরাও একাধিক বিয়ে করতে পারেন না।
বিবাদী বর্তমানে তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে থাকে। অন্ধ ভিক্ষুক স্বামী তাঁকে নিয়মিতভাবে নির্যাতন করে বলে আবেদনে জানিয়েছিলেন ওই মহিলা। তবে সেই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে উচ্চ-আদালত। বিবাদীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত বলেছে যে, ভিক্ষাবৃত্তিকে জীবিকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।
বিচারপতি পি ভি কুন্নিকৃষ্ণণ বলেছেন, ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের বহুবিবাহের শিকার হয়ে নিঃস্ব স্ত্রীদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।’