মুম্বই উপকূলে আন্তর্জাতিক তেল পাচার চক্র ভাঙল কোস্ট গার্ড

ভারতীয় উপকূলে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় কোস্ট গার্ড। মুম্বই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে আন্তর্জাতিক তেল পাচার চক্র ভেঙে তিনটি সন্দেহভাজন জাহাজ আটক করা হয়েছে। শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সমন্বিত সমুদ্র ও আকাশপথে অভিযান চালিয়ে এই জাহাজগুলি আটক করা হয়। ধৃত জাহাজগুলিকে বিস্তারিত তদন্তের জন্য মুম্বইয়ে নিয়ে আসা হতে পারে। পরে সেগুলি ভারতীয় শুল্ক দপ্তর ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নজর এড়াতে জাহাজগুলি বারবার নিজেদের পরিচয় বদলাত। সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিভ্রান্ত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ। জাহাজগুলির মালিক বিদেশে বসবাসকারী বলেও জানা গিয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘর্ষপ্রবণ অঞ্চল থেকে আসা বিপুল পরিমাণ সস্তা তেল ও তেলজাত পণ্য সমুদ্রপথে আনা হত। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে সেই তেল স্থানান্তর করা হত। এরপর তা মোটর ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হতো, যাতে উপকূলবর্তী দেশগুলিতে প্রাপ্য শুল্ক এড়ানো যায়।

এই অভিযানের শুরু হয় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে। ভারতীয় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে একটি মোটর ট্যাঙ্কারকে চিহ্নিত করে কোস্ট গার্ড। পরে ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ ও জাহাজের গতিপথ খতিয়ে দেখে আরও দু’টি জাহাজের গতিবিধি নজরে আসে।

কোস্ট গার্ডের বিশেষ প্রশিক্ষিত বোর্ডিং দল জাহাজে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ করে, নথিপত্র যাচাই করে এবং নাবিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের কার্যপদ্ধতি স্পষ্ট করে। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক পাচার নেটওয়ার্ক, যেখানে একাধিক দেশের হ্যান্ডলাররা সমন্বয় করে মাঝসমুদ্রে তেল বিক্রি ও স্থানান্তরের কাজ চালাত।

অভিযানকারীরা মনে করছেন, এই চক্র ভাঙার ফলে সমুদ্রপথে বেআইনি তেল বাণিজ্য বড় ধাক্কা খাবে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে আরও বেশ কয়েকদিন।