ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে নয়া সংযোজন

রাজ্যে পালাবদলের পর ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় আসল তৃণমূল তকমা নিয়ে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক বসে পড়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বিরোধী দলনেতা বলে দাবি করেছেন। আর তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। লোকসভায় পৃথক ব্লক গড়ে তুলেছেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। তাঁর সঙ্গে আছেন প্রায় ২০ জন সাংসদ। তাঁরা আবার এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও এখন চিঠি জমা পড়েনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। কিন্তু বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একদফা বৈঠক করেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। এবার সেখানে নয়া সংযোজন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে এনডিএকে সমর্থন করে লোকসভায় ‘আলাদা ব্লকে বসার’ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা। এই আবহে শুক্রবার প্রকাশ্যে এসেছে ১৯ জনের সই। ‘দল বিরোধী আইনে’র কোপে যাতে পড়তে না হয় তাই সাংসদ পদ বজায় রাখতে মরিয়া ওই তূণমূলের সাংসদরা। দলের প্রতীক বদল না করে পৃথক থাকতে লোকসভায় প্রয়োজন ন্যূনতম ১৯ জন। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ। তবে স্নায়ুচাপে রয়েছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা। কারণ দীপক অধিকারী (দেব) বেসুরো রয়েছেন। এই আবহে শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে এক গাড়িতে দেখা গেল উত্তর কলকাতার সাংসদকে। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তালিকায় জায়গা পাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ১৯ জনই একজোট আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে আগামী সোমবার নয়াদিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে আবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকের পর হবে নৈশভোজও। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর। আর এদিন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়ে সটান বৈঠকে বসে পড়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।


তাছাড়া রাজ্যসভা থেকেও একের পর এক সাংসদ পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন। সুতরাং চাপ বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের। শতাব্দী রায়ের সঙ্গে ইতিমধ্যেই ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই এখন জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। সুতরাং দীপক অধিকারী (দেব) না থাকলেও সংখ্যা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়ে উঠবেন তুরুপের তাস। আগামী সোমবারের বৈঠকে কোন সমীকরণ তৈরি হয় সেটাই দেখার। দীর্ঘদিনের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম ভরসাযোগ্য বলে পরিচিত তিনিও এবার বিদ্রোহী ব্লকে নাম লেখালেন বলে জানা যাচ্ছে। মনে রাখা দরকার, চিটফান্ড মামলায় কয়েক বছর আগে অভিযোগ ওঠায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাটাতে হয়েছিল জেলে। তারপর এখন রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এবার যাতে তাঁর উপর কোনও কোপ না পড়ে তার জন্যই এই ভোলবদল বলে মনে করছেন অনেকে। অথচ তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গেই রয়েছেন।