জোড়াফুল প্রতীক কার? দল কার? তহবিল থাকবে কার হাতে? এইসব প্রশ্নের যুক্তিগ্রাহ্য তথ্য এবং নথি জমা করতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেগুলি দেখেই ‘আসল’ তৃণমূল চেনার গুরুদায়িত্ব পালন করবে নির্বাচন কমিশন। এবার সেই আইনি লড়াইয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ল কালীঘাট। সোমবার দলের অধিকার নিজেদের পক্ষে রাখতে নয়াদিল্লির ‘নির্বাচন সদনে’ হাজির হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিরা। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার আগেই নির্বাচন সদনে নথি জমা দিল দু’পক্ষ। কালীঘাটের পক্ষ থেকে সোমবার নথি জমা দেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। অপরদিকে, ঋতব্রতরা সশরীরে না গিয়ে আইনজীবী মারফত তাঁদের ব্যাখ্যা জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে এই দু’পক্ষের যুক্তি দেখে এবার বিচার করবে নির্বাচন কমিশন। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন ‘আমাদের দলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়, একদম পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল দল। যে পার্টি একটা পারিবারিক সম্পত্তিতে, একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল, আমরা সবাই মিলে সেই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ছি।’ ঋতব্রতরা নির্বাচনে কমিশনে তৃণমূলের গঠনতন্ত্র, সেই অনুযায়ী জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এবার নথি জমা দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, ‘১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের জন্য ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক বরাদ্দ করেছিল। তখন দলের নাম ছিল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। তার গঠনতন্ত্রে ছিল তিন বছর অন্তর কর্মসমিতি তৈরি করতে হবে। পরে ২০০০ সালে দলের নাম হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। ওই নামেও নির্বাচন কমিশন সিলমোহর দিয়েছিল। তার গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়— চার বছর অন্তর কর্মসমিতি তৈরি করতে হবে।’ আর আখরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ফুলবেঞ্চের সঙ্গে মিটিং করে এসেছিলাম। আজকে আমাদের আইনজীবী গিয়ে আরও কিছু নথি দিয়ে এসেছেন।’ পাল্টা কল্যাণের বক্তব্য, ‘যদি তাই হয়, তাহলে তো যাঁরা বিধায়ক হিসাবে জিতেছেন সেই জেতাটাই অবৈধ। কারণ, ২০২৫ সালে মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়ে থাকলে ২০২৬ সালের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা সিম্বল নিলেন কী করে?’
তাছাড়া দলের প্রতীক-তহবিল নিয়ে যখন দড়ি টানাটানি চলছে তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নথি জমা করা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা নির্বাচন কমিশনের। এই আবহে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমরা আইনত পোক্ত জায়গায় আছি। কিন্তু ওদের সঙ্গে বিজেপি আর শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থন আছে। তাই ওদের বেআইনিটাও আইনি হতে পারে। কিন্তু আদালত আর জনতার আদালতে আমরা দেখিয়ে দেব।’