ভূপেন্দ্র যাদবের খেলায় কিস্তিমাত তৃণমূল, ২০ জন সাংসদের নাম-সহ স্পিকারকে চিঠি কাকলির

বিধানসভার মতো লোকসভাতেও ভাঙন দেখা দিল তৃণমূলের। নয়াদিল্লিতে গিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করছেন তখন সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। দল ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়ে দিলেন। আবার ২০ জন সাংসদের নাম-সহ লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং শতাব্দী রায়। তার আগে বিজেপির শীর্ষনেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। সেখানে তৈরি হওয়া নকশা অনুযায়ী খেলা শুরু হয়ে গেল। আর তাতেই আপাতত কিস্তিমাত ঘাসফুল শিবির।

এদিকে এই ঘটনায় তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কারণ এই বিদ্রোহী সাংসদদের নেতৃত্বে আছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা সোমবার চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। তৃণমূলের সংসদীয় দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করলেন তাঁরা। এটাই রাজধানীর অলিন্দে প্রেসার ব্লক। কাকলির দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না তাঁরা। বরং এনডিএ-তে যোগ দেবেন তাঁরা। তৃণমূলের একটি পৃথক ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান তাঁরা। এবার এই চিঠি গৃহীত হলে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল ভেঙে যাবে।

অন্যদিকে যে সংখ্যক সাংসদ বিদ্রোহী দেখিয়েছেন এবং চিঠি জমা পড়েছে তাতে লোকসভায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদক্ষেপ করা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। আর লোকসভায় দলের দুই তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সাংসদের সমর্থন আছে বিদ্রোহীদের হাতে। এই বিষয়ে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ শর্মিলা সরকার জানান, তাঁদের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এদিন পৃথক বৈঠক করে লোকসভা কক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে পৃথক হয়ে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পৃথক ব্লকটি রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে এনডিএ জোটকে সমর্থন করবে। ভূপেন্দ্র যাদবের উদ্যোগেই তাঁরা এই পদক্ষেপ করলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সোমবার নয়াদিল্লিতে যান। দুপুরে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেও যান তিনি।


তাছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যসচেতক হিসেবে এদিন চিঠি জমা দিয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। কিছুদিন আগেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই পদে বসানো হয়েছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যা কাকলি দেবীর ভাল লাগেনি। তখন থেকেই বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন। এবার তা চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিলেন। এই প্রেসার ব্লকের তালিকায় আছেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, জগদীশ বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, সাজদা আহমেদ, বাপি হালদার, ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান বলে সূত্রের খবর। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারের দফতরে আগেই জানানো হয়েছিল।’