মধ্যপ্রদেশে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব চাষে জোর, আহ্বান কৃষকদের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

মাটির উর্বরতা বজায় রাখা এবং রাসায়নিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কৃষকদের জৈব ও প্রাকৃতিক চাষের দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন মোহন যাদব। সোমবার মধ্যপ্রদেশের বারওয়ানি জেলায় আয়োজিত রাজ্যের প্রথম ‘কৃষি মন্ত্রিসভা’ বৈঠকে তিনি এই বার্তা দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয় এবং পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক চাষে প্রথম দিকে উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাটির উর্বরতা বাড়বে এবং ফলনও বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষকদের আয় স্থায়ীভাবে বাড়বে এবং কৃষি আরও টেকসই হবে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রচলিত রাসায়নিক নির্ভর কৃষি থেকে প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষির দিকে ধাপে ধাপে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, মাটির গুণমান উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালকে ‘কৃষক কল্যাণ বর্ষ’ হিসেবে উৎসর্গ করার ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। সেই উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিমার–মালওয়া অঞ্চলের লোকদেবতা ভিলাট দেবের মন্দিরে গিয়ে রাজ্যের কৃষকদের সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। মোহন যাদব বলেন, নিমার অঞ্চলের কৃষকরা নর্মদা নদী-র জল সেচের কাজে ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হচ্ছেন। মাইক্রো সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে বারওয়ানি-সহ বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের কাছে নিয়মিত জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকেরা একাধিক ফসল ও উদ্যানপালন করে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী হচ্ছেন।


এছাড়াও কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে ‘ভাবান্তর যোজনা’-র আওতায় সরিষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে কালো উড়দ ডালের ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রতি কুইন্টালে ৬০০ টাকা অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনে মধ্যপ্রদেশ দেশের অন্যতম প্রধান রাজ্য। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। আদিবাসী অধ্যুষিত বারওয়ানি জেলায় এই কৃষি মন্ত্রিসভার আয়োজন রাজ্য সরকারের কৃষকদের উন্নয়নের প্রতি প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন।