অনামিকার পর সৌমাল্য, লখনউয়ের সর্বনাশা আগুনে ছাই নামখানার তরতাজা যুবক

লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ড ইতিমধ্যেই প্রাণ কেড়েছে কলকাতার অনামিকার। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার সৌমাল্য বেরা(২৫)-র। সোমবার লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ড তাঁর প্রাণ কেড়েছে। সৌমাল্যর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার। বুধবার নামখানার বাড়িতে সৌমাল্যর দেহ আনা হয়। দেহ সেখানে এসে পৌঁছতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান।

সোমবার লখনউয়ের আবাসনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই আবাসনের দোতলায় ছিল অ্যানিমেশনের একটি স্টুডিও। সেখানেই সৌমাল্য কাজ করতেন। পরিবার সূত্রের খবর, সৌমাল্যর পরিবার অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরেই তাঁর সঙ্গে যোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও সৌমাল্যর পরিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত লখনউয়ের স্থানীয় থানা থেকে নামখানায় সৌমাল্যর বাড়িতে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোট থেকেই সৌমাল্য মেধাবী। সৌমাল্যর স্কুলজীবন কেটেছে নামখানাতেই। নামখানা ইউনিয়ন হাই স্কুল থেকে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। এরপরে অ্যানিমেশন ও কার্টুন ডিজাইন নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি লখনউতে যান। চার বছর ধরে তিনি সেখানেই কাজ করছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এক মাস আগে তিনি লখনউয়ে ফিরে যান।


জানা গিয়েছে, সৌমাল্যর একজন দাদাও রয়েছেন। তাঁর বাবা পেশায় ব্যবসায়ী। মা শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সৌমাল্যর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। তবে শুধু সৌমাল্যই নন, লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কলকাতার বাসিন্দা অনামিকা সামন্ত(৩০) ও তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমার(২৭-এর মৃত্যুর খবর মিলেছে।

সূত্রের খবর, অনামিকা কলকাতার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তিনি লখনউতে থাকতেন। তবে তাঁর হবু স্বামী নীলেশ লখনউয়ের বাসিন্দা। লখনউয়ে একটি অ্যানিমেশন সংস্থায় তাঁরা কাজ করতেন। সম্ভবত সেই সংস্থাতেই কাজ করতেন সৌমাল্য বেরা। সেখানেই সহকর্মী নীলেশের সঙ্গে অনামিকার পরিচয় হয়। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভালোবাসায় পরিণত হয়। পরিবারের সদস্যরা অনামিকা ও নীলেশের বিয়ে ঠিক করেন।

দুই বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় শুরু হতেই গত সপ্তাহে অনামিকার বাবা-মা কলকাতা থেকে লখনউয়ে নীলেশের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পরিবার মিলে ছোট একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছিল। আগামী সপ্তাহে নীলেশের বাবা-মায়ের কলকাতায় আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। বিয়ের আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল শোকযাত্রায়।

উল্লেখ্য, লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় বাণিজ্যিক ভবনের অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জনের মৃত্য হয়েছে। এই ঘটনায় চার জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ভবনটিতে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত গাফিলতি রয়েছে। ভবনের অনুমোদ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।