বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলায় সরকার গঠন করেছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বেঙ্গালুরুতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মাত্র তিন জন বিধায়ক ছিলেন। আজ সেই রাজ্যেই ২০০-র বেশি বিধায়ক নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে।‘
প্রসঙ্গত, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। শনিবারই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীও। মঞ্চ থেকে বাংলার মানুষের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনেই বিজেপি রাজ্যে পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনকে বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবেই দেখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক সভা করে রাজ্যের মানুষের কাছে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের অপশাসন ও রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশ থেকে বাংলাকে বের করে নতুন দিশা দেখাবে বিজেপি সরকার। নির্বাচনের ফলাফল সেই প্রচারের পক্ষে গিয়েছে বলেই মত গেরুয়া শিবিরের।
বেঙ্গালুরুর সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি ও এনডিএ-র বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় কর্ণাটকে বিজেপির শক্তি সীমিত ছিল, কিন্তু বর্তমানে দলটি সেখানে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। পাশাপাশি অন্ধ্র প্রদেশে এনডিএ সরকারের উপস্থিতি, তেলেঙ্গানা বিজেপির প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠা এবং পুদুচেরিতে দ্বিতীয়বার এনডিএ সরকারের গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষণে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, ফল ঘোষণার পরও সেখানে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে কেরলে সরকার গঠন প্রসঙ্গে কংগ্রেসকেও কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশের একাধিক রাজ্যে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই সামনে আনতে চাইছে গেরুয়া শিবির।