তেলের দাম ও করোনা ভাইরাস আনলক করেছেন মোদি: রাহুল গান্ধি

রাহুল গান্ধি (File Photo: IANS)

মোদি সরকার করোনা ও জ্বালানি তেলের দাম আনলক করেছে বলে তোপ দাগলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি । তিনি অভিযোগ করেন, করোনা ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি আনলক করে মোদি সরকার দেশের মানুষের দুর্দশা শতগুণ বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। বুধবার পেট্রোলের থেকেও মহার্ঘ হয়েছে ডিজেল। ইতিহাসে এমন নজির নেই। নেটিজনেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।

কলকাতায় বেসরকারি বাসগুলি সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই বেশি ভাড়া নিতে শুরু করেছে। টানা সতেরো দিন পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বুধবার আঠারোতম দিনে পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়নি। অন্যদিকে ডিজেলে দাম বাড়ানো হয়। এতেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাসে নয়া নজির সৃষ্টি হয় ডিজেল পেট্রোরে থেকে মহার্ঘ হওয়ায়। এদিন দিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৭৯.৭৬ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটার পিছু ৭৯.৮৮ টাকা।

সাধারণত পেট্রোলের থেকে ডিজেলের দাম কম থাকে। পণ্য পরিবহণকারী যানগুলি ডিজেলে চলে। কিন্তু পেট্রোলের চেয়ে ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় পরিবহণ সংস্থাগুলিও বিপাকে পড়েছে। তারা বেশি ভাড়া হাঁকছে। না দিলে পচনশীল দ্রব্যগুলি আটকে পড়ছে। এতে চাষী ও ফড়ে উভয়েরই ক্ষতি। আর তার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বেশি দাম দিয়ে সবজি থেকে যাবতীয় দ্রব্য কিনতে হচ্ছে।


কলকাতায় বাসের কন্ডাক্টররা যাত্রীদের অনুরোধ করছেন বেশি ভাড়া দিতে। কারণ তেলে দাম বাড়ানো হয়েছে লাগাতার আঠারো দিন ধরে। আঠারো দিনের মাথায় সরকার পেট্রোলের দাম না বাড়িয়ে হঠাৎই ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিল। ফলে পেট্রোলের চেয়ে ডিজেলের দাম বেশি হয়ে গেল। ট্যাক্সি চালকরাও বেশি ভাড়া না দিলে যেতে চাইছে না।

লকডাউনের অবস্থায় এমনভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে মোদি সরকার মানুষের দুর্দশাকে শতগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এতটা কম থাকা সত্ত্বেও কার স্বার্থে তেলের দাম বাড়িয়েই চলেছে সরকার এ প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার কলকাতায় লিটার পিছু পেট্রোলের দাম ছিল ৮১.৪৫ টাকা, বুধবারও তা অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৭৫,০৬ টাকা। বাস মালিকরা একটি পোস্টার সেঁটে দিয়ে আবেদন জানিয়েছেন, ডিজেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে বাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বেশি ভাড়া না দিলে যাত্রী পরিবহণ পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়, পরিষেবা সচল রাখতে বাড়তি ভাড়া দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।