দিল্লির সেবাতীর্থে বৈঠক করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দুপুরে এই বৈঠক হয়। প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। শনিবারই চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন রুবিয়ো। সুইডেন থেকে সোজা কলকাতায় আসেন তিনি। একাধিক কর্মসূচি সেরে দুপুরেই দিল্লি উড়ে যান মার্কিন বিদেশসচিব।
বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মোদী জানান, ‘আমরা ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধু তা-ই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও।’ সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন রুবিয়ো।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর, রুবিয়োর এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এটি কোনও সম্পর্ক মেরামতের সফর নয়, বরং দুই ঘনিষ্ঠ অংশীদারের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। আসন্ন কোয়াড সম্মেলন নিয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে মূলত বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা শক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখনও জারি৷ তিন মাস ধরে প্রায় বন্ধ হরমুজ প্রণালী৷ এই পরিস্থিতিতে ‘কোয়াড’ গোষ্ঠীর বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো৷
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর বিদেশমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিয়োর এটিই প্রথম ভারত সফর। মার্কো রুবিয়ো ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ভারতের তিনটি শহর কলকাতা, জয়পুর ও আগ্রা, সফর করবেন, যা ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন মোড় দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবারের বৈঠকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রায় ১ ঘণ্টার এই বৈঠকে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে খবর। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়াও, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা প্রসারে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, রবিবারও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আরেকটি পর্বে ‘কোয়াড বৈঠক’ এবং এতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে বৈঠক হতে পারে। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, ভারতের জ্বালানি চাহিদার বৈচিত্রায়নে আমেরিকান জ্বালানি পণ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে । শনিবারের বৈঠকে ভারতের তরফে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বৈঠকে যোগ দেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও।
শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতা থেকে ঘুরে যান রুবিয়ো। প্রথমে যান মাদার হাউস। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর তিনি নির্মলা শিশুভবন পরিদর্শন করেন। এরপর দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার আবহে রুবিয়োর এই ভারত সফরকে কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সওয়াল করে এসেছে এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপরও গুরুত্ব দিয়েছে।