শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই বাস্তব! নিজেদের পয়সা খরচ করে, নিজেদের ভাড়া করা লোককে দিয়েই নিজেদের ফোন করাচ্ছে মোদী সরকার। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে কেনা হচ্ছে প্রশংসাসূচক টুইটও। সম্প্রতি আমেরিকার ‘ফরেইন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’ (FARA)-এর কাছে জমা দেওয়া মার্কিন লবিং সংস্থাগুলির রিপোর্ট থেকে নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই ‘পেইড’ কূটনীতির চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে এসেছে। সেই বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্র।
মাসে আড়াই লক্ষ ডলারের ‘লবিং’
রিপোর্ট বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের একেবারে ‘ইনার সার্কেল’-এর লোকেদের নিজেদের পকেটে পুরতে জলের মতো টাকা ঢেলেছে ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাস। ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জেসন মিলারের সংস্থা ‘এসএইচডব্লিউ পার্টনার্স’-কে মাসে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার এবং ‘মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ নামের অপর এক সংস্থাকে মাসে ৭৫ হাজার ডলার দিয়ে ভাড়া করেছিল ভারত। অর্থাৎ, ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠদের দিয়ে লবিং করাতে প্রতি মাসে স্রেফ ফিজ বাবাদই ভারতীয় করদাতাদের ২ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার (প্রায় ২ কোটি টাকা) খরচ করা হয়েছে।
পয়সা দিয়ে আটটি ফোন কল!
প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল টাকার বিনিময়ে কী পেল ভারত? রিপোর্ট বলছে, এই সংস্থাগুলি মূলত ভারত এবং আমেরিকার শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে ফোন কলের ব্যবস্থা করেছে! গত মে-জুন মাসে জেসন মিলারের সংস্থা দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আটটি হাই-প্রোফাইল ফোন কলের ব্যবস্থা করে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউসের অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধিদের কথা বলানোর জন্যই এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, নিজের পয়সায় লোক রেখে তাদের দিয়েই নিজেদের সরকারের সঙ্গে কথা বলার এই বন্দোবস্ত এক কথায় নজিরবিহীন!
টাকায় কেনা মোদীর জন্য ট্রাম্পের টুইট!
সবচেয়ে হাস্যকর তথ্যটি মিলেছে মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স-এর জমা দেওয়া নথিতে। ব্রায়ান ল্যানজা বা সুসি ওয়াইলস-এর মতো ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠরা ছিলেন এই সংস্থায়। নথিতে দাবি করা হয়েছে, গত জুন মাসে নরেন্দ্র মোদী ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্সে (X) যে শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করেছিলেন, সেটিও আসলে এই লবিং-এরই অংশ! অর্থাৎ, বিপুল অর্থ খরচ করে লবিং সংস্থাকে দিয়ে ট্রাম্পের এক্স হ্যান্ডেল থেকে মোদীর জন্য শুভেচ্ছাবার্তা আনানো হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায় ভারতের এই ‘পয়সা দিয়ে প্রভাব কেনার’ চেষ্টার রিপোর্ট সামনে আসতেই তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।