পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এবং আসামে (Assam) বিজেপির (BJP) সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ (The Washington Post)-এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিজেপি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এবং সদস্য সংখ্যার নিরিখে চিনা কমিউনিস্ট পার্টিকেও (Chinese Communist Party) পিছনে ফেলেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজেপির সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় ১৪ কোটি, যা পৃথিবীর অন্য যে কোনও রাজনৈতিক দলের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, মানব ইতিহাসে অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার তুলনায় নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় নিয়েও বিশদ আলোচনা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারকে সরিয়ে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে আসামে বিজেপি ৮২টি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। পুদুচেরিতেও জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (NDA) সরকার বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই মতামতধর্মী নিবন্ধের লেখক বিল ড্রেক্সেল (Bill Drexel), যিনি হাডসন ইনস্টিটিউটের (Hudson Institute) সিনিয়র ফেলো। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ভারত দ্রুত বিশ্বশক্তি হয়ে উঠছে এবং সেই সময়েই বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব আরও শক্তিশালী করছে।
ড্রেক্সেল লিখেছেন, ‘দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও মোদী বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক নেতাদের তুলনায় জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন।’ তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় প্রমাণ করে দিয়েছে যে, দলটির রাজনৈতিক উত্থান এখনও শেষ হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।