ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার জেরে তৈরি হওয়া অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার রাতেই জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির (সিসিএস) বৈঠক। রাজস্থান, গুজরাত, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি সফর শেষে রাত সাড়ে ন’টায় দিল্লিতে ফিরেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বিমান হামলা এবং তার পরবর্তী ঘটনাবলীর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে হামলার বিষয়েও কমিটিকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে এই অঞ্চলে বসবাসকারী বৃহৎ ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পর্যটক, শিক্ষার্থী ও কর্মসূত্রে সেখানে থাকা ভারতীয়দের সম্ভাব্য সমস্যার দিকটিও খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর এই সংঘাতের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়।
সিসিএস সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফেরার উপর জোর দিয়েছে ভারত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র, প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান, মন্ত্রীপরিষদ সচিব টিভি সোমনাথন এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা।
এর মধ্যেই ইরানের দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। রবিবার রাতে তিনি শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টকে তিনি জানান, এই কঠিন সময়ে ভারত সংহতির সঙ্গে আমিরশাহীর পাশে থাকবে। দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে মোদী লেখেন, ভারত উত্তেজনা হ্রাস, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।
একই রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দ্রুত হিংসা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি জোর দেন। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথাও জানান তিনি।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা প্রায় অচল। সামরিক উত্তেজনার জেরে বিমান পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে দুবাই, দোহা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে কয়েক হাজার ভারতীয় আটকে পড়েছেন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।
ইরানে প্রায় ১০ হাজার, ইজরায়েলে ৪০ হাজারের বেশি এবং উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মিলিয়ে প্রায় নয় লক্ষ ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই এখন ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।