উপপ্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শাহ, ছাঁটাই ধর্মেন্দ্র প্রধান? মোদী মন্ত্রীসভার রদবদল ঘিরে তুমুল জল্পনা

মোদী মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা (AI নির্মাণ)

দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ফের একবার জোর গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় (Union Cabinet) বড়সড় রদবদল হতে চলেছে বলে একের পর এক রিপোর্ট সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উপপ্রধানমন্ত্রী (Deputy Prime Minister) পদে উন্নীত করা হতে পারে বলে যেমন জল্পনা ছড়িয়েছে, তেমনই রাজনাথ সিং এবং নীতিন গড়করির মতো দুই প্রবীণ নেতার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে গোটা বিষয়টা এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়।

তবে শুরুতেই স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো, এখনও পর্যন্ত এর কোনওটাই সরকার বা বিজেপির তরফে অফিসিয়ালি নিশ্চিত করা হয়নি। যা কিছু শোনা যাচ্ছে, সবটাই সূত্র-নির্ভর রিপোর্ট এবং রাজনৈতিক মহলের অন্দরের আলোচনা।

রদবদলের ইঙ্গিত কেন


জল্পনা জোরালো হয়েছে মূলত রাজ্যসভার মেয়াদ শেষে জর্জ কুরিয়ানের ইস্তফা এবং প্রতিমন্ত্রীর পদে ফাঁকা আসনের পর থেকে। এর পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মধ্যে পৃথক পৃথক বৈঠক জল্পনায় ঘৃতাহুতি দিয়েছে। রাজনাথ সিংও সম্প্রতি অমিত শাহ, বিজেপির নতুন সভাপতি নিতিন নবীন, সংগঠন সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ এবং আরএসএসের রাজনৈতিক আলোচক অরুণ কুমারের সঙ্গে রাতভর বৈঠক করেছেন বলে সূত্রের খবর। অতীতেও এমন বৈঠকের পরেই মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়েছে বলে দাবি একাধিক রিপোর্টে।

বর্ষাকালীন অধিবেশন (Monsoon Session of Parliament) শুরু হওয়ার কথা জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ নাগাদ। বেশিরভাগ রিপোর্টের দাবি, অধিবেশনের ঠিক আগেই রদবদল সারা হতে পারে। তবে একটি সূত্র উলটো কথাও বলছে, তাদের দাবি সময়ের অভাবে রদবদল অধিবেশনের পরেও পিছিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সময় নিয়ে এখনও পরিষ্কার কোনও ছবি নেই।

 শাহের বড় উত্তরণ, কী বলছে জল্পনা

সবচেয়ে চর্চিত সম্ভাবনা হল অমিত শাহকে ঘিরে। একাধিক আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উপপ্রধানমন্ত্রী পদে বসানো হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ব্যাখ্যা, এটা শুধু পদোন্নতির বিষয় নয়। এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে দলে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের অঙ্ক। রাজনাথ সিং এবং নীতিন গড়করি, এই দুই নেতাই দলে নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি এবং আরএসএসের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক রাখেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, এই দুই প্রবীণ নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হলে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর পরে একচ্ছত্র ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেন অমিত শাহ একাই। যদিও এই দাবিরও কোনও সরকারি সমর্থন নেই।

উলটো দিকে অন্য একটি সূত্রের দাবি, উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রাজনাথ সিংকে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রীর গদি নিয়ে টানাপড়েন

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা কম নয়। নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং সিবিএসই-র (CBSE) ডিজিটাল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁর ইস্তফার দাবি জোরালো হয়েছিল। একটি সূত্রের দাবি, প্রাক্তন আরবিআই (RBI) গভর্নর শক্তিকান্ত দাসকে অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, আর তেমনটা হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে সরানো না হয়ে শিক্ষা মন্ত্রকে সরিয়ে আনা হতে পারে। যদিও এটাও নিছকই একটি সম্ভাবনা, একাধিক বিকল্প জল্পনার মধ্যে একটি মাত্র।

রাঘব চাড্ডার সামনে সুযোগ, পাঞ্জাবের অঙ্ক

আম আদমি পার্টি ছেড়ে সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডার নামও জোরালোভাবে ঘোরাফেরা করছে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায়। পাঞ্জাবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক দেওয়া হতে পারে বলে দাবি একাধিক রিপোর্টে। এর বাইরে নীতীশ কুমার, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, শ্রীকান্ত শিণ্ডে এবং অনুরাগ ঠাকুরের নামও আলোচনায় রয়েছে সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য কী বার্তা

বাংলার পাঠকদের কাছে এই রদবদলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটা সম্ভবত রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পরে দলের রাজ্য সাংসদদের একাংশকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে একাধিক রিপোর্টে। এতদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব ছিল তুলনায় কম। ভোট-পরবর্তী রাজ্যে সাংগঠনিক অবস্থান আরও পোক্ত করতে এবং আগামী দিনে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে দিল্লি এবার বাংলাকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে পারে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের। তবে কোন সাংসদ বা কোন মন্ত্রক, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট নাম সামনে আসেনি।

শেষ কথা এখনও বলেনি সরকার

সব মিলিয়ে গোটা ছবিটাই আপাতত জল্পনা এবং সূত্র-নির্ভর। কে থাকছেন, কে বাদ পড়ছেন, কবে ঘোষণা হবে, তার কোনওটাই এখনও চূড়ান্ত নয়। বিজেপির অন্দরমহল এবং আরএসএসের প্রতিক্রিয়ার উপরেই অনেকটা নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। আপনাদের জন্য আমরাও দৈনিক স্টেটসম্যান ডিজিটাল টিমের তরফে এই খবরের উপর নজর রাখছি, কোনও আপডেট এলেই বিশদে জানানো হবে।