মীনাক্ষী ভট্টাচার্য, দিল্লি
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের ম্যারাথন বৈঠকে ‘উন্নত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজধানীর সেবা তীর্থে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কার, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক পাঁচ দেশের বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় রাত পর্যন্ত। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, ‘উন্নত ভারত ২০৪৭ শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, এটি সরকারের অঙ্গীকার। সব মন্ত্রককে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করতে হবে।’
মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অতীতের সাফল্য নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রশাসনিক স্তরে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা জটিলতা যাতে না থাকে, সে বিষয়েও কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘ফাইল নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।’
বৈঠকে সাধারণ মানুষের ‘জীবনকে সহজতর করা’ এবং কাঠামোগত সংস্কারের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কমিয়ে প্রয়োজনের সময়ে সঠিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া বলেও মত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি ‘মিনিমাম গভর্নমেন্ট, ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স’-এর নীতিকেই আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরল।
সূত্রের দাবি, গত ১১ মাসে বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের মূল্যায়নও এই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যৌথভাবে কোন কোন মন্ত্রকের কাজ প্রত্যাশামতো হয়নি, তা খতিয়ে দেখছেন। আগামী জুন মাসের প্রথম দিকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রে এমনও ইঙ্গিত মিলেছে যে, এবার বাংলা থেকেও নতুন মুখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারে।
বৈঠকে অর্ধ ডজনের বেশি মন্ত্রক নিজেদের কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেয়। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পাঁচ দেশের সফরের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি এবং তৃতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন, সরকারের সাফল্য এবং সংস্কারের বার্তা আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বায়োগ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকের শেষেও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘এখন সামনে এগোনোর সময়। ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণে আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।’