শর্টকাট জীবনে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে : জেন-জি-দের প্রতি বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Image: Screengrab

রিল, ইনফ্লুয়েন্সার আর তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তার এই যুগে শর্টকাটের পিছনে না ছোটার পরামর্শ দিয়ে জেন-জি-দের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  বুধবার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী ‘ট্রায়াম্ফ অফ দ্য ইন্ডিয়ান রিপাবলিক : মাই লাইফ, মাই স্ট্রাগলস’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, দ্রুত সাফল্য বা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য ভুল পথ বেছে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘শর্টকাট আপনার জীবনকে সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে।‘

রেলস্টেশনের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, অনেকেই ফুটব্রিজ ব্যবহার না করে রেললাইন পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে চান। তাঁদের মনে হয়, এটাই সহজ এবং দ্রুততম রাস্তা। কিন্তু সেই শর্টকাটের পরিণতি অনেক সময় ভয়াবহ হয়। জীবনের ক্ষেত্রেও একই শিক্ষা প্রযোজ্য। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার বদলে তরুণদের আরও অর্থবহ এবং সঠিক পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুধু রেললাইন পার হওয়ার ঝুঁকি নয়, রিল বানাতে গিয়ে বিপজ্জনক নানা ঘটনার প্রবণতার কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। সমাজমাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের জনপ্রিয়তা অর্জন করার জন্য তরুণরা যেন নিজের জীবন বিপন্ন না করেন, সেই বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। পাশাপাশি, এমন সমাজমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সারদের থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন। মোদীর বক্তব্য, সামনে এগোনোর পথ খুঁজতে হলে যাঁদের তরুণরা শ্রদ্ধা করেন, তাঁদের আত্মজীবনী পড়া উচিত। কারণ একটি আত্মজীবনী থেকে কোনও ব্যক্তির জীবনসংগ্রাম, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং সময়ের সঙ্গে তাঁর পথ চলার নানা দিক জানা যায়।


তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছতে সম্প্রতি মোদীর বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তরুণদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ধরনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ছাত্র বিক্ষোভ এবং নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজোড়া ক্ষোভের পর থেকেই জেন জি-দের কাছে পৌঁছতে সমাজমাধ্যমকে আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মধ্যরাতে একাধিক ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। তরুণদের ‘ফ্রেন্ডস’ বলে সম্বোধন করা সেই ভিডিওগুলি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ফলোয়ারের সংখ্যাও বেড়ে যায়।

শুধু মোদীই নন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি এবং আরএসএসও। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রক ছোট ভিডিওর মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহেই বিদেশ মন্ত্রক স্ন্যাপচ্যাটে আত্মপ্রকাশ করেছে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ছাত্র বিক্ষোভের পর এক মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের তরুণদের পছন্দের সমাজমাধ্যমে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রচলিত, অতিরিক্ত সুসজ্জিত সরকারি প্রচারের বদলে সহজ, স্বাভাবিক এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মেলে—এমন ভিডিও তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের দেশজোড়া বিক্ষোভের পর এই তরুণ-যোগাযোগের উদ্যোগ আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এই আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এ দিনের অনুষ্ঠানে মোদীর বার্তা ছিল জীবনযাপন নিয়ে, রাজনীতি নয়। সঠিক পথই শেষ পর্যন্ত নিরাপদ এবং অর্থবহ—জেন জি-কে এই বার্তাই ফের দিলেন প্রধানমন্ত্রী।