পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য জারি হওয়া আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কনডাক্ট বা এমসিসি) তুলে নিল নির্বাচন কমিশন। গত ১৫ মার্চ এই পাঁচ রাজ্যে ভোটের সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই এমসিসি কার্যকর হয়েছিল। ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে আচরণবিধি প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এখনও এমসিসি বহাল থাকবে। কারণ, ওই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সমস্ত ভোট বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন হবে এবং ফল প্রকাশ করা হবে ২৪ মে। সেই কারণে ফলতা কেন্দ্রের জন্য আপাতত নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ফলতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। পরে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ওঠে এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে কমিশনের কাছে আবেদন জমা পড়ে। কমিশন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখে স্ক্রুটিনি চালায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক বুথ থেকে পুনর্ভোটের আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ফলতা অন্যতম।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা, মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবার-সহ বিভিন্ন এলাকায় যান। তিনি ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দিল্লিতে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠান। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে ফলতা কেন্দ্রের পরিস্থিতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে কমিশন ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এর আগে ২ মে মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথ এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল।