দেশে সর্বোচ্চ ক্যানসার আক্রান্তের হার মিজোরামে

দেশের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি মিজোরামে বলে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, শুধু আইজল জেলাতেই প্রতি এক লক্ষ পুরুষের মধ্যে বয়স-সমন্বিত ক্যানসার আক্রান্তের হার ২৬৯.৪, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, মিজোরামে পাকস্থলী ও ফুসফুসের ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অতিরিক্ত তামাক ও সুপারি সেবন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণ। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে মিজোরাম সরকার। গত ২৩ জানুয়ারি এশীয় উন্নয়ন বাঙ্কের সঙ্গে একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের নাম ‘মিজোরাম ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার স্কিম’, যার লক্ষ্য রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা।

এছাড়া বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহায়তায় ‘মিজোরাম হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং প্রকল্প’ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। এই প্রকল্পের আওতায় আইজলে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘মিজোরাম স্টেট সুপার স্পেশালিটি ক্যানসার ও গবেষণা কেন্দ্র’, যা ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী লালরিনপুই জানিয়েছেন, জনসংখ্যার তুলনায় মিজোরামে ক্যানসারের হার অত্যন্ত বেশি। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত তামাক ব্যবহার, ধূমায়িত মাংস, শূকরের চর্বি ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

তিনি আরও জানান, মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসার সবচেয়ে বেশি হলেও জরায়ুমুখ ক্যানসারও বড় উদ্বেগের কারণ। এই ধরনের ক্যানসারের ৯৯.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস দায়ী। তাই ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের মুখ্যসচিব খিল্লি রাম মীনা বলেন, বিশ্বজুড়ে জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের একজন ভারতীয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই টিকাকরণ কর্মসূচি বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি সারা দেশে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেছেন।