রমরমিয়ে চলছে ডিটারজেন্ট মেশানো দুধের কারবার, মহারাষ্ট্রে কোটি টাকার ভেজালচক্রের হদিস

Photo: File photo

কম-বেশি সকলের বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই দুধ আসে। চা থেকে শুরু করে রান্না সবেতেই দুধের জুরি মেলা ভার। কিন্তু সেই দুধ কতটা খাঁটি জানেন? ধরুন, আপনি জানতে পারলেন যে দুধ আপনি ও আপনার পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন পান করেন সেটি সম্পূর্ণ ভেজাল। তাতে ডিটারজেন্ট পাউডার থেকে শুরু করে পাম ওয়েল মেশানো হচ্ছে। ঠিক এরকমই ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে এইভাবেই চলছে ভেজাল দুধের কারবার। মহারাষ্ট্রের ধরাশিব জেলার ভুম এলাকায় এভাবেই প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ লিটার ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

ধরাশিব জেলার ভুম এলাকা দুধ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। পুলিশ এবং মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও মাদক বিভাগ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এরপরেই ভেজাল দুধ তৈরির বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তকারীরা তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার কেজি নিম্নমানের গুঁড়ো দুধ দিয়ে কৃত্রিম দুধ তৈরি করেছে। সেই গুঁড়ো দুধ দিয়ে ২৩ লক্ষ ৮ হাজার ৭০ লিটার সিন্থেটিক দুধ তৈরি হয়েছে। সেই দুধের বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ২১ লক্ষ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা।

জানা গিয়েছে, আসল দুধের সঙ্গে কৃত্রিম দুধ মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করা হত। ১০০ লিটার আসল দুধের সঙ্গে প্রায় ১০ লিটার ভেজাল দুধ মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করা হত। ভুম এলাকার একাধিক কেন্দ্র থেকে এই ভেজাল দুধ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হত। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা আইনের কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।


তবে এই দুনীর্তির তদন্তে নেমে পুলিশ মূল মাথা বালাসাহেব গোড়গে-র সন্ধান পেয়েছে। তিনি ভেজাল তরল দুধ তৈরির জন্য ভেজাল গুঁড়ো দুধ বিভিন্ন জায়গায় ডেয়ারি ইউনিটে সরবরাহ করতেন বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন দুধ সংগ্রহকেন্দ্র এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলেও পুলিশের অনুমান। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে জামাকাপড় কাচার ডিটারজেন্ট, পাম ওয়েল মিশিয়ে কৃত্রিম দুধ তৈরি করা হত। মূলত কৃত্রিম দুধের রং ও ফ্যাটের মাত্রা ধরে রাখতে এইসব ভেজাল ব্যবহার করা হত।

ভারতের খাদ্যসুরক্ষা আইন অনুযায়ী, এই ধরনের ভেজাল দুধ তৈরি করার অপরাধে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত দোষীদের যাবজ্জীবন সাজা ও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।