নিজের পড়াশোনার সমস্ত ফি নিয়ম মেনে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে মিটিয়েছিলেন। এমবিবিএস (MBBS) পড়া শেষ করেছেন। এমনকী বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপও সম্পূর্ণ। কিন্তু হাতে এখনও নেই সেই বহু প্রতীক্ষিত ডিগ্রি। কারণ, কলেজে দেওয়া তাঁর প্রায় ১.১৩ কোটি ফি এনআইএ (NIA) বাজেয়াপ্ত করেছে। আর সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় কলেজের দাবি, আবার ফি জমা দিতে হবে! এই ‘দ্বৈত শাস্তি’র বিরুদ্ধেই এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ এক এমবিবিএস স্নাতক।
‘পূজা কুমারীর মামলায় বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কলেজকে নোটিশ দিয়েছে। ২০১৭ সালে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চেট্টিনাড অ্যাকাডেমি অফ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন-এ এমবিবিএস-এ ভর্তি হয়েছিলেন পূজা কুমারী। পড়াশোনার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে কলেজকে মোট প্রায় ১.১৩ কোটি ফি দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস কোর্স এবং বাধ্যতামূলক রোটেটিং মেডিক্যাল ইন্টার্নশিপও সম্পূর্ণ করেন।
এর মধ্যেই ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে মাওবাদী যোগের অভিযোগে ইউএপিএ -তে মামলা করে এনআইএ। তাঁর ভাইকেও অভিযুক্ত করা হয়। তবে পূজা নিজে ওই মামলায় অভিযুক্ত নন। তদন্তের সময় তাঁর পড়াশোনার জন্য কলেজে জমা দেওয়া টাকাকেই কথিত অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে চিহ্নিত করে এনআইএ। এরপরে কলেজের কাছ থেকে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারপরেই আটকে যায় পূজার চূড়ান্ত এমবিবিএস ডিগ্রি, প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট-২ (Provisional Certificate-II) এবং কোর্স কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (Course Completion Certificate)।
কলেজের যুক্তি, টাকা যেহেতু এনআইএ নিয়ে নিয়েছে। তাই সার্টিফিকেট পেতে হলে পূজাকে ফের পুরো ফি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৪ সালের এপ্রিলে একক বিচারপতি তাঁর আবেদন খারিজ করেন। পরে ২০২৬ সালের জুনে ডিভিশন বেঞ্চও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালত জানায়, সাধারণত বকেয়া ফি আদায়ের নিরাপত্তা হিসেবে শিক্ষাগত শংসাপত্র আটকে রাখা যায় না। কিন্তু এই ঘটনায় কলেজ নিজেই এনআইএ-র বাজেয়াপ্তির কারণে টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই পূজার উচিত সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালতে গিয়ে বাজেয়াপ্ত টাকা ছাড়ানোর চেষ্টা করা।
এই সিদ্ধান্তকেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন পূজা। তাঁর বক্তব্য, যে মামলায় তিনি অভিযুক্তই নন, সেই মামলার তদন্তের আর্থিক পরিণতি কেন তাঁকেই বইতে হবে? একবার ফি দেওয়ার পর তদন্তকারী সংস্থা সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। তার জন্য ফের তাঁকেই একই টাকা দিতে বলা কার্যত তাঁকে দু’বার শাস্তি দেওয়ার সমান।
এই মানবিক প্রশ্নই এবার সর্বোচ্চ আদালতের দরজায়। অন্যের বিরুদ্ধে তদন্তের কারণে একজন নির্দোষ এমবিবিএস স্নাতকের ভবিষ্যৎ কি আটকে থাকতে পারে?