সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী রামগুলাম

নিজস্ব চিত্র

ভারত সফরে আসা মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলাম মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রী ও সাংসদ সোনিয়া গান্ধি এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কংগ্রেস দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

রামগুলাম ৯ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের সরকারি সফরে রয়েছেন। এই সময়ে তিনি মুম্বই, বারাণসী, অযোধ্যা ও তিরুপতির মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান দর্শন করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রামগুলামের এই সফরে ভারতের সঙ্গে মরিশাসের পুরনো বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নবীনচন্দ্র রামগুলামের পরিবার ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তার পিতা স্যার শিবসাগর রামগুলামকে মরিশাসের স্বাধীনতার ‘পিতামহ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রাখে। রাজনৈতিক মহলে কংগ্রেসের সঙ্গে এই সাক্ষাতকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং ঐতিহ্যকে ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


কংগ্রেস সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ভারত-মরিশাস সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতায় নেই, এটি সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী। মরিশাসের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ ও বিহার থেকে আগত অভিবাসীদের বংশধর। এই প্রেক্ষাপটে গান্ধি পরিবার মরিশাসের সঙ্গে বহু বছর ধরে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

দিল্লিতে এই বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা এবং মরিশাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সোনিয়া গান্ধি ও রাহুল গান্ধি রামগুলামের ভারত সফরকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে মরিশাসের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বন্ধনের মাধ্যমেও শক্তিশালী। এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি অত্যন্ত গভীর। এতে গান্ধি পরিবারের ভূমিকা দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ।