মাতৃত্বকালীন ছুটি সরকারের করা কোনও দয়া নয়, এটি কর্মরতা মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার খর্ব করতে কোনও সরকারি নির্দেশিকা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চলবে না। এক ঐতিহাসিক রায়ে এই স্পষ্ট বার্তা দিল জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট। আদালত শুধু বিতর্কিত সরকারি নির্দেশিকাই বাতিল করেনি, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়ে আটকে রাখা বেতন ও ভাতা অবিলম্বে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ রায়টি এসেছে ড. সোনাক্ষী গুপ্তা এবং আরও কয়েকজন মহিলা চিকিৎসকের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে। এই চিকিৎসকরা জম্মু ও কাশ্মীরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সিনিয়র রেসিডেন্ট এবং টিউটর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক বা নির্দিষ্ট মেয়াদের (একাডেমিক অ্যারেঞ্জমেন্ট) ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৪ই অক্টোবর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা দফতর অর্থ দফতরের পরামর্শে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার সময়ে এই মহিলা চিকিৎসকদের কোনও বেতন দেওয়া হবে না, কারণ ওই সময়ে তাঁরা ‘ডিউটির বাইরে’ ছিলেন।
সরকারের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন মহিলা চিকিৎসকেরা। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী অভিনব জামওয়াল যুক্তি দেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকার নিজেই একটি আদেশ জারি করে সিনিয়র রেসিডেন্ট ও টিউটরদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা সম্প্রসারিত করেছিল। কিন্তু ছুটি নেওয়ার সময়ে তাঁদের একবারও জানানো হয়নি যে এই সময়ে তাঁদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রমন শর্মা দাবি করেন, আবেদনকারীরা স্থায়ী সরকারি কর্মচারী নন, বরং নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিভিত্তিক কর্মী। তাই তাঁরা ছুটির সময়ে বেতন পাওয়ার যোগ্য নন।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি রজনীশ ওসওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ প্রশাসনের এই যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। আদালত তার রায়ে বলে, মাতৃত্বকালীন ছুটির সঙ্গে পূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকারটি প্রত্যক্ষভাবেই জড়িত। যদি ছুটির সময়ে বেতনই আটকে দেওয়া হয়, তবে এই ছুটির মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়। একবার যখন নিয়ম অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে, তখন কোনও প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে সেই বেতন বন্ধ করা বেআইনি।
আদালত জম্মু-কাশ্মীর সরকারের সেই বিতর্কিত নির্দেশিকাটি বাতিল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে, যে সমস্ত মহিলা চিকিৎসকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়কার বেতন ও ভাতা আটকে রাখা হয়েছিল, তা যেন অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের এই রায় কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের মাতৃত্বকালীন সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করল।