তিন মাসের বেশি বয়সি শিশু দত্তক নিলে মায়েদের মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেওয়া অসাংবিধানিক। মঙ্গলবার এক মামলার প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দত্তক গ্রহণকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও মাতৃত্বের অধিকার সমানভাবে প্রযোজ্য এবং তাদেরও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার রয়েছে। বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়েছেন, ‘দত্তক নেওয়া সন্তানের বয়স যাই হোক না কেন, দত্তক-মা ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়ার অধিকারী।’ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ‘একজন মা কীভাবে তার জীবনে সন্তানকে গ্রহণ করছেন, তার ওপর মাতৃত্বের সুরক্ষা নির্ভর করে না। তিন মাসের কম বয়সি শিশুকে দত্তক নেওয়া মা এবং তার বেশি বয়সি শিশুকে দত্তক নেওয়া মা, উভয়ের পরিস্থিতি একই।’
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ‘জৈবিক মা এবং দত্তক মাকে আলাদা শ্রেণিতে রাখা যেতে পারে, কিন্তু সেই ভিত্তিতে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না।’ বিচারপতিরা বলেছেন, ‘সামাজিক সুরক্ষা আইনে এই বিভাজন দত্তক নেওয়ার পর মা ও শিশুর মানসিক এবং শারীরিক মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে।’ রায়ে আদালত দত্তক গ্রহণকে পরিবার গঠনের একটি সমান গুরুত্বপূর্ণ ও বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বেঞ্চের বক্তব্য, ‘দত্তক নেওয়া সন্তান কোনওভাবেই তথাকথিত জৈবিক সন্তানের থেকে আলাদা নয়। বরং দত্তক গ্রহণ পিতৃত্ব-মাতৃত্বের আরও গভীর প্রতিফলন হতে পারে।’
এই রায়ে আদালত সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড, ২০২০-এর ধারা ৬০(৪)-এর বয়সভিত্তিক শর্তকে সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতার অধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে। যদিও এই ধারা সরাসরি বাতিল করা হয়নি, তবুও আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘এমন বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’ এছাড়াও আদালত আইনের একটি বাস্তব সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করেছে। বিচারপতিরা বলেছেন, কোনও শিশুকে আইনগতভাবে দত্তকযোগ্য ঘোষণা করার জন্য যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তাতে তিন মাসের কম বয়সী শিশুদের দত্তক নেওয়ার ঘটনা খুবই কম ঘটে। ফলে বর্তমান আইনের বয়সসীমা বাস্তবে অনেক মাকে মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন হংসানন্দিনী নন্দুরি, যিনি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল)-এর মাধ্যমে এই বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তার দাবি ছিল, এই শর্ত সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক এবং সংবিধানের সমতার অধিকারের পরিপন্থী। সবশেষে, সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকারকে পিতৃত্বকালীন ছুটিকেও সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। আদালতের মতে, ‘সন্তানের লালনপালনে বাবার ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা।’