আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৬.২ মাত্রার এক ভূমিকম্পের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয় জম্মু-কাশ্মীর, দিল্লি এনসিআর-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের ভয়াবহতার পর ফের কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ বহুতল, অফিস, ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হওয়ায় রাজধানী দিল্লি-সহ একাধিক শহরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বা এনসিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৬.২। এর উৎসস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা সংলগ্ন এলাকা। বাদাখশান প্রদেশের জুরমের কাছে সৃষ্ট এই ভূকম্পন কাবুল এবং উত্তর পাকিস্তানের কিছু অংশকেও কাঁপিয়ে দেয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। যদিও কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাবে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার গভীরে। গভীর উৎসস্থল হওয়ায় কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনুভব করা গেলেও প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, এবং এনসিআরের অন্যান্য এলাকাতেও কম্পন টের পাওয়া যায়। বহু বাসিন্দা জানান, প্রথমে মেঝে ও আসবাবপত্র কাঁপতে শুরু করে। এরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা দ্রুত ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সমাজমাধ্যমেও বহু মানুষ ভূমিকম্প অনুভবের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। ভূমিকম্পের পর প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজরদারি শুরু করেছে। প্রয়োজন না হলে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে প্রশাসন।
একই দিনে পাকিস্তানেও রিখটার স্কেলে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। এছাড়া হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় ৩.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যার উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে। একদিনের ব্যবধানে উত্তর-পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে একাধিক ভূমিকম্পের ঘটনা নজর কেড়েছে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল বিশ্বের অন্তম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে। গভীর উৎসস্থলের ভূমিকম্প অনেক সময় হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে, যদিও তাতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।