দান্তেওয়াড়ায় পাঁচ মাওবাদীর আত্মসমর্পণ, উদ্ধার বিপুল অস্ত্রভান্ডার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ফের মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ। মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় দীর্ঘদিনের সশস্ত্র আন্দোলন থেকে সরে এসে পাঁচজন মাওবাদী নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। পাঁচজন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করলেন। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই সদস্যরা অবশেষে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে চারজন মহিলা হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, কারলি এলাকার পুলিশ লাইনে ‘পুনা মারগেম’ কর্মসূচির আওতায় এই আত্মসমর্পণ হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরানো এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীরা জানিয়েছেন, মাওবাদী সংগঠনের দুর্বলতা ও উদ্দেশ্যহীনতার কারণে তাঁরা এই পথ ছেড়ে দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘পুনা মারগেম’ উদ্যোগের আওতায় কারলি পুলিশ লাইনে আত্মসমর্পণের এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই হল পথভ্রষ্টদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা জানিয়েছেন, সংগঠনের ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া এবং আদর্শের কোনও বাস্তব ফল না থাকায় তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আত্মসমর্পণকারী পাঁচজনের মাথার উপর মোট নয় লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল। তাঁদের মধ্যে বিজাপুর জেলার ভৈরমগড় এরিয়া কমিটির সদস্য সোমে কাদতি, বয়স প্রায় ৪২ বছর, যার মাথার উপর ছিল পাঁচ লক্ষ টাকার পুরস্কার। বাকি চারজন হলেন— লক্ষ্মা ওয়ায়াম (১৯), সরিতা পোডিয়াম (২১), জোগি কালমু (২০) এবং মোতি ওয়ায়াম (১৯)।

এই আত্মসমর্পণের পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন অস্ত্রভান্ডার থেকে মোট ৪০টি মারাত্মক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আটটি এসএলআর রাইফেল, তিনটি ইনসাস রাইফেল, একটি কারবাইন, একটি .৩০৩ রাইফেল এবং পাঁচটি গ্রেনেড লঞ্চার। এর ফলে মাওবাদীদের শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দান্তেওয়াড়ায় মাওবাদী দমনে লাগাতার সাফল্য মিলছে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই জেলায় ৬০৭ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। একই সময়ে ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৫৪ জন সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিজাপুর, নারায়ণপুর ও সুকমা জেলার সঙ্গে যৌথ অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই আত্মসমর্পণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানান, ‘পুনা মারগেম’ উদ্যোগের মাধ্যমে যারা হিংসার পথ ছেড়ে ফিরতে চান, তাঁদের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং সম্মানজনক জীবনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বাস্তার অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও মানুষের আস্থা আরও মজবুত হবে বলে প্রশাসনের আশা। ক্রমাগত আত্মসমর্পণ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ফলে বাস্তার অঞ্চলে মাওবাদী আন্দোলন দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারও আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে সব রকম সাহায্য করছে, যাতে তাঁরা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারেন।

তবে অমিত শাহের ঘোষিত ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদী মুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও দেশে নকশালদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সময়সীমার শেষ দিনেও পাঁচ মাওবাদীর আত্মসমর্পণ শাহের দাবি অন্তঃসারশূন্য বলে প্রমাণিত হল।