মাওবাদীদের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হল। আত্মসমর্পণ করলেন সিপিআই(মাওবাদী)-র শীর্ষস্থানীয় নেতা দেবুজি ওরফে দেবজি ওরফে থিপ্পিরি তিরুপতি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বেঁধে দেওয়া ৩১ মার্চের আগেই মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী। এক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্তা জানিয়েছেন, দেবুজি বর্তমানে বাহিনীর হেফাজতেই রয়েছেন, শীঘ্রই তাঁর আত্মসমর্পণ আনুষ্ঠানিক ভাবে নথিভুক্ত করা হবে।
৬২ বছর বয়সি এই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। গত দুই দশক ধরে তিনি মাওবাদীদের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের প্রধান হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত বছরের মে মাসে সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজুর মৃত্যুর পর দেবুজিকেই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হয়। সেই অর্থে, মাওবাদী ইতিহাসে এত উচ্চপর্যায়ের নেতার আত্মসমর্পণ নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন কগার’-এর জেরে ছত্তিসগড়-সহ একাধিক রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযান জোরদার হয়েছে। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ৫২০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। গোয়েন্দাদের অনুমান, এক সময় যেখানে শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র সদস্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০, তা কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০-তে। অন্যদিকে, সাহায্যকারী মিলিশিয়া বাহিনীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বাহিনীর সংখ্যাও ৭ হাজার থেকে কমে হাজারে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও লাগাতার নিরাপত্তা চাপে কোণঠাসা অবস্থাই দেবুজির আত্মসমর্পণের প্রধান কারণ। এই ঘটনাকে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামোগত দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।