সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে নিয়ে একটি ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিকৃত। ভিডিওটিতে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তা প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য সনাক্তকরণ দপ্তর জানিয়েছে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ পান্ডেকে ঘিরে একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই ভিডিওতে তাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি দপ্তরের বক্তব্য, ভিডিওটি প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃত করা হয়েছে। বাস্তবে তিনি এমন কোনও মন্তব্য করেননি। তথ্য সনাক্তকরণ দপ্তর আরও জানিয়েছে, বিদেশি প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত কিছু সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে। এর পিছনে উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা নষ্ট করা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, ইজরায়েলকে সমর্থন করার কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্ষতি হয়েছে। সেনাদের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর বাহিনীতে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি সেখানে আরও বলা হয়েছে, ইজরায়েলের প্রশিক্ষকরা নাকি ভারতীয় সেনাদের বিশেষ কিছু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তবে সরকারি দপ্তরের বক্তব্য, এই সমস্ত মন্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসল ভিডিওতে প্রাক্তন সেনাপ্রধান ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘আমরা এমন এক জটিল সময়ের সন্ধিক্ষণে বাস করছি, যেখানে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের কথাও মাথায় রাখতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।’
সরকারি দপ্তর সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে কোনও সংবেদনশীল বিষয় দেখলে তা যাচাই না করে শেয়ার করা উচিত নয়। বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। এর আগেও সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভুয়ো দাবি ছড়িয়েছিল যে, ভারত নাকি একটি ইরানের নৌজাহাজের অবস্থান ইজরায়েলকে জানিয়েছে। পরে সরকারি তথ্য যাচাইকারী দপ্তর জানায়, সেই দাবিটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।