মণিপুরে অশান্ত পরিস্থিতি: ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত ইন্টারনেট পরিষেবা

প্রতীকী চিত্র

অশান্ত পরিস্থিতির জেরে মণিপুর সরকার ফের বাড়াল ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। মঙ্গলবার রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ইম্ফল উপত্যকার পাঁচটি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট ও ডাটা পরিষেবা আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত ৭ এপ্রিল প্রথমবার তিন দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছিল। সেই সময় বিষ্ণুপুর জেলায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই শিশুর মৃত্যু এবং এক মহিলার আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ ওঠে, কুকি জঙ্গিরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। এরপর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর, গুজব এবং উত্তেজক বার্তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনও প্রবল। এই ধরনের তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনতা উত্তেজিত হয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে। তাই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা জরুরি বলে মনে করছে প্রশাসন।


তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে কারফিউ আংশিক শিথিল করা হয়েছে। ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব, থৌবল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর— এই পাঁচ জেলায় প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। এই সময়ে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে পারবেন এবং দোকানপাটও খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারফিউ শিথিল থাকলেও পরিস্থিতি যাতে ফের উত্তপ্ত না হয়, সেজন্য কেউ কোনও ধরনের অস্ত্র বহন করতে পারবেন না। লাঠি, পাথর বা আগ্নেয়াস্ত্র— কোনও কিছুই সঙ্গে রাখা যাবে না।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই এনআইএ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে একাধিক বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে সেনা, আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পর থেকেই ইম্ফল উপত্যকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন একদিকে যেমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে। অন্যদিকে শান্তি বজায় রাখার জন্য জনগণকেও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।