পাহাড় জুড়ে নতুন করে মৃত্যুমিছিল: মণিপুরে পৃথক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৮ জনের মৃত্যু, জারি হাই অ্যালার্ট

A traditional group procession in Bishnupur, Manipur (Image: Pexel/@Hiyang HP Chothe)

শান্তি ফেরার যাবতীয় সরকারি আশ্বাসে জল ঢেলে ফের রক্ত ঝরল মণিপুরে। শনিবার রাজ্যের পৃথক কয়েকটি হিংসাত্মক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আট জন। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচ জন নাগা, দুই জন কুকি এবং এক জন নেপালি নাগরিক। নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই তাণ্ডবের জেরে উত্তর-পূর্বের সীমান্ত রাজ্যে ফের চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

একাধিক প্রান্তে সশস্ত্র তাণ্ডব

 প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সতর্ক নজরদারি থাকা সত্ত্বেও শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় দফায় দফায় গুলির লড়াই ও হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়ি ও উপত্যকার সংযোগস্থলগুলিতে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় ঘটনাস্থলগুলিতে তড়িঘড়ি পাঠানো হয়েছে বিশাল পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী (paramilitary forces)। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে পাহাড়ি বনাঞ্চল ও সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বড়সড় চিরুনি তল্লাশি (search operations) শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।


নতুন সমীকরণ

 মণিপুরে দীর্ঘ দিন ধরে চলা জাতিদাঙ্গার কেন্দ্রে মূলত ছিল মেইতেই এবং কুকি জনজাতির সংঘাত। তবে এ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে নাগা জনগোষ্ঠীর পাঁচ জনের প্রাণহানি গোটা পরিস্থিতির সমীকরণকে আচমকা আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলল। পাহাড়ি অঞ্চলে নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলি এত দিন তুলনামূলক ভাবে শান্ত ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে আজকের ঘটনায় পাঁচ নাগার মৃত্যু রাজ্যের পাহাড়ি জেলাগুলিতে নতুন ফ্রন্টে ক্ষোভের আগুন উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এক নিরীহ নেপালি নাগরিকের মৃত্যু স্থানীয় অ-জনজাতি বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

থমথমে উপত্যকা

 ঘটনার পরপরই হিংসাদীর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী নামিয়ে শুরু হয়েছে টানা রুটমার্চ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তায় অস্থায়ী সেনা চৌকি বসিয়ে চলছে নাকা চেকিং। সমাজমাধ্যমে ভুয়ো তথ্য বা উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে যাতে নতুন করে সংঘাত না বাড়ে, সে দিকে সাইবার সেল কড়া নজর রাখছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা স্পর্শকাতর জেলাগুলির প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।