ম্যাঙ্গালুরু কুকার বিস্ফোরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সাজা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। বর্তমানে ১০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর।
তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্ত মহম্মদ শরিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং সমাজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় চার বছর জেল খেটেছে সে, বাকি রয়েছে আরও ছয় বছর।
তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় পুলিশের হাতে আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে সে। অভিযোগ, শিবমোগ্গা এলাকার নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরই মঙ্গলুরু বিস্ফোরণের ছক কষে।
দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ‘বর্তমান সাজা শেষ হওয়ার পর অভিযুক্তের বয়স খুব বেশি হবে না। সেই অবস্থায় সমাজে ফিরে এলে ফের অসামাজিক বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।’ এই কারণেই কঠোর শাস্তির আবেদন করা হচ্ছে।
এদিকে, তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০২০ সালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পর স্থানীয় পুলিশের তদন্তে গাফিলতি ছিল। সঠিকভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ না করায় অভিযুক্ত সহজেই জামিন পেয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে বড়সড় ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পায় বলে দাবি তদন্তকারী মহলের।
বিশেষ আদালত গত এপ্রিল মাসে অভিযুক্তকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। আদালতে সে নিজের দোষ স্বীকারও করেছিল। তবে কম শাস্তির আবেদন জানিয়েছিল, কারণ সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বলে দাবি করে।
অন্যদিকে, এই মামলার আর এক অভিযুক্ত এখনও দোষ অস্বীকার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলবে।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে নতুন করে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রুখতে তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।