দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে এক আসনে বসিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখান থেকেই তাঁর বার্তা, দেশের যুবসমাজই যা উত্তর দেওয়ার দেবে। অভিভাবক হয়ে দরকারে তাঁদের পথ দেখাবেন তিনি। রবিবার দুপুরে রামলীলা ময়দানের যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে শুধুই মানুষ আর মানুষ। কারও রাজনৈতিক পরিচয় আছে, কেউ সাধারণ মানুষ। সবাই একটাই লক্ষ্য নিয়ে জমায়েত করেছেন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব সকলে। আর সেই বিরোধী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে প্রতিবাদের ব্যাটন যুবসমাজের হাতে তুলে দেওয়ার বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে রামলীলার মঞ্চে বলতে উঠে প্রথমেই সোনিয়া গান্ধীকে ‘আমার নেত্রী’ বলে সম্মোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও নেতা বলে সম্মোধন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ‘ইয়ং লিডার’ বলে রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করেন তিনি। আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা কাছে টেনে নেন বামেদেরও। মমতা সুর সপ্তমে তুলে বলেন, ‘বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন দেশের গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। বাংলায় লক্ষ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যুব প্রজন্ম নেতৃত্ব দিক, আমরা গাইড করব। আমরা হারিনি, হারানো হয়েছে। ভোট লুট করেছে বিজেপি, দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। বিজেপি এবং জ্ঞানেশ কুমার দু’জনেই যাবে। পশ্চিমবঙ্গ ‘এসআইআর’-এর শিকার।’
অন্যদিকে রবিবার রাহুলের সঙ্গে একই গাড়িতে রামলীলা ময়দানে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুলের আসনের ঠিক পিছনের আসনেই ছিলেন তিনি। এই আসন বিন্যাসেও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে ধারণা অনেকের। দিল্লিতে তখন বিকেল হয়ে এসেছে। আলো কমেছে। কিন্তু রামলীলা ময়দানের ভিড় এতটুকুও কমেনি। এমনই একটা সময়ে বিরোধীদের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, ‘ভ্যানিশ কুমার, আপনি ভোট ভ্যানিশ করে দিয়েছেন। মানুষের চাকরি, ভোটাধিকার, জীবন সব লুট করেছেন। আমাদের একটাই কথা, আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ। পশ্চিমবঙ্গে ওরা ভোট লুট করেছে। আমি তো হারিনি, আমাকে হারানো হয়েছে। এখন আমাকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। জেনে রাখুন, গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশবাসীকে প্রকৃত ভালবাসা যায়।’
তাছাড়া তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, তেজস্বী যাদব, কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে থেকে শুরু করে বাম নেতৃত্ব এবং নানা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই মঞ্চে উপস্থিত আছেন। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর বার্তা, এখন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সকলে মিলে যে লড়াই শুরু করা হয়েছে, তাতে জয় নিশ্চিত। এরপরই মমতার বার্তা, ‘এসআইআর-এর প্রকৃত অর্থ হল ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিলিফ টু আ পলিটিক্যাল পার্টি লাইক বিজেপি’। শুধু ভোট বা গণতন্ত্র নয়, বাংলার মানুষের চাকরি, সম্মান এবং সাংবিধানিক অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিজেপি যাওয়ার জন্য তৈরি, ওরা যাবেই। সরফরোশি কি তামান্না আজ হামারে দিল মে হ্যায়, দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-এ-কাতিল মে হ্যায়। দেশ বাঁচাতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষায় বিচার বিভাগকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষকে আর চোখের জল ফেলতে না হয়। ভারত বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান। আর এই লড়াইয়ে পড়ুয়া, মহিলা, জেন-জি সবাই আসুন। যুব প্রজন্ম, আপনারা লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিন, আমরা গাইড করব।’