‘কেন্দ্রীয় দল পৌঁছনোর আগেই বাংলো ছেড়ে দিয়েছেন মহুয়া ‘ জানিয়েছেন মহুয়ার আইনজীবী 

দিল্লি, ১৯ জানুয়ারি – লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে দিল্লির বাংলো খালি করতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক। শুক্রবার বাংলো খালি করতে দল পাঠায়  ডিরেক্টরেট অফ এস্টেট। তবে মহুয়ার আইনজীবী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় দল পৌঁছনোর আগেই বাংলো খালি করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ বাংলো খালি করে দেওয়া হয়। এক সংবাদ সংস্থা  জানিয়েছে, ডিরেক্টরেট অফ এস্টেট -এর একটি দল শুক্রবার সকালে মহুয়ার বাংলোতে পৌঁছয়। তাদের হাতে বাংলো-সহ র জিনিসপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মহুয়ার আইনজীবী জানান। সরকারি আধিকারিকরা বাংলোর অবস্থা খতিয়ে দেখেছেন।  

মহুয়ার আইনজীবী শাদান ফারাসাত বলেন, ‘‘দিল্লির টেলিগ্রাফ লেনে ৯বি নম্বর যে বাড়িটিতে মহুয়া মৈত্র ছিলেন, শুক্রবার সকাল ১০টায় তা সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে। ডিরেক্টরেট অফ এস্টেট-এর আইনজীবীর হাতে বাংলোর জিনিসপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আসার আগেই বাংলো খালি করা হয়েছিল। ফলে কোনও ‘উচ্ছেদ’ হয়নি।’’

লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বাংলো খালি করার নোটিস দিয়েছিল  ডিওই। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেন মহুয়া। যদিও তা খারিজও হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, সরকারি বাংলোয় থাকার অধিকার হারিয়েছেন মহুয়া। কারণ, তাঁকে সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার পরেই শুক্রবার সকালে কেন্দ্রের দল পৌঁছে যায় মহুয়ার বাংলোর সামনে।


গত বছরের ৮ ডিসেম্বর অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলায় মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। এরপর নিয়মমাফিক তাঁকে বাংলো খালি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়। জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে মহুয়াকে সাংসদদের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাংলোটি ছেড়ে দেওয়ার নোটিস পাঠায় কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের ডিওএ। তখন তিনি এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত জানায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারি বাংলোয় ৬ মাস পর্যন্ত থাকা যায়। সেই অনুমতি দিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  তবে এর জন্য প্রাক্তন সাংসদকে অর্থ দিয়ে থাকতে হবে। বিচারপতি মহুয়া মৈত্রকে মামলাটি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। 

১৭ জানুয়ারি ফের নোটিস দেয় ডিওই। দ্রুত বাংলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।  এর পরেও সরকারি বাংলো খালি করেননি মহুয়া। গত মঙ্গলবার তাঁকে ফের বাংলো খালি করতে বলা হয়। নোটিসে লেখা হয়, বাংলো খালি করতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের রাস্তাতেও হাঁটতে পারে তারা। দিল্লি হাই কোর্টে মহুয়ার আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় দল মহুয়াকে উচ্ছেদ করতে পৌঁছে যায়। তবে বল প্রয়োগের আগেই বাংলোটি মহুয়া ছেড়ে দিয়েছেন।