মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেটকে ঘিরে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হল। রবিবার এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কায় ২০২৬-এর টেট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিল মহারাষ্ট্র রাজ্য পরীক্ষা পর্ষদ। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়লেন প্রায় ৬ লক্ষ পরীক্ষার্থী। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ থানের ভিওয়ান্ডি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। সেখানে কয়েকজনের কাছ থেকে এমন কিছু প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়, যা টেটের নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে গিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। এই ঘটনায় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভিওয়ান্ডি পুলিশ এবং গোটা চক্রের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে আসতেই কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও কেন্দ্র ও মহারাষ্ট্র সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস, আবারও পরীক্ষা বাতিল। দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা তোলাবাজিতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু একটি পরীক্ষা বাতিল নয়, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ চুরি করার সামিল।’
মহারাষ্ট্র রাজ্য পরীক্ষা পর্ষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা তাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই কারণেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে ২৮ জুনের পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ৩৭টি স্থানে মোট ১ হাজার ৭২৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পর্ষদের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সংশোধিত পরীক্ষার দিনক্ষণ ও নতুন সূচি শীঘ্রই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নতুন করে পরীক্ষায় বসার জন্য কোনও প্রার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনও রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের গুজব বা উড়ো খবরে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পর্যদ।
এদিকে, টেট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রশ্ন ফাঁস এখন মহারাষ্ট্র সরকারের পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালের বলেছেন, ‘উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের শক্ত ঘাঁটি থানেতেই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এই চক্রের পিছনে কারা রয়েছে এবং কারা তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে সেটা তদন্ত করে জানা দরকার।’ নিটের পর টেটের প্রশ্ন ফাঁসের এই ঘটনায় দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।