গোপনে দিনের পর দিন চলছিল মানবপাচার এবং দেহব্যবসা। এই কাজকে ঘিরে একটা চক্র তৈরি হয়েছিল। যারা ছলে-বলে-কৌশলে তরুণী, যুবতীদের অন্ধকার পথে নিয়ে আসত। যেখান থেকে ফেরা কার্যত অসম্ভব। এবার মহারাষ্ট্রের থানেতে মানবপাচার এবং দেহব্যবসার ওই চক্রের কার্যকলাপ ফাঁস করল পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক বধূকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নারীপাচার এবং দেহব্যবসা চালাত ওই বধূ বলে অভিযোগ। কিন্তু পিছনের মাথা অনেক বড়। যার নাগাল খুঁজছে পুলিশ। এখান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫ বছরের এক টেলি-অভিনেত্রীকে। রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে ওই অভিনেত্রীকে দেহব্যবসায় নামানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তবে সঙ্গে ছিল বলপ্রয়োগ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত তরুণী-যুবতীদের জোর করে দেহব্যবসায় নামানো হতো। ধৃত বধূর সঙ্গে থাকা পুরুষ সহযোগীর খোঁজে তল্লাশি চলছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েই ৮ অক্টোবর মীরা-ভাইন্দর রোডের একটি হোটেলে ফাঁদ পাতা হয়। এক পুলিশকর্মীকে ক্রেতা সাজিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। পরে হোটেলে অভিযান চালিয়ে সোনিয়া উমর কুরেশী (৩৯) নামে এক বধূকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুবতীদের জোর করে দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগে টাকা নেওয়ার সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয়।
এখান থেকে উদ্ধার করা অভিনেত্রী হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং ওয়েব সিরিজে কাজ করেন। তাঁকে মুম্বাইয়ের রেসকিউ ফাউন্ডেশনে নিরাপদে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তাঁকে এই চক্রের ফাঁদে কেমন করে ফেলা হয়েছিল তদন্তের স্বার্থে কিছু জানাতে চায়নি পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, সোনিয়া উমর কুরেশী এবং তাঁর পুরুষ সহযোগী বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের, জোর করে দেহব্যবসায় নামানো হতো। বিশেষ করে যাঁরা টেলিভিশন ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং ফোটোশুটে কাজ করে তাঁদের দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করত।
ছত্তিশগড়ের সরগুজা জেলার বাসিন্দা সোনিয়া উমর কুরেশী এখন মুম্বাইয়ের জোগেশ্বরীতে থাকত। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪৩ ধারা মানবপাচার এবং অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পুরুষ সহযোগীর খোঁজে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এই সোনিয়া উমর কুরেশীকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে সে এই দেহব্যবসার কাজ চালাতে পারে। এখান থেকেই বিরাট টাকার লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ। সবটা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।