ভোটারের জন্ম তারিখ ও অভিভাবকের তথ্য নিশ্চিত করার জন্য মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য: সুপ্রিম কোর্ট

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় নিজেদের নির্দেশের সামান্য পরিমার্জন করেছে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনই পরিমার্জনের আবেদন করেছিল এবং আদালত সেই অনুযায়ী নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বুধবার স্পষ্ট করেছে, পশ্চিমবঙ্গে যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে ভোটাররা তাঁদের জন্ম ও অভিভাবকের তথ্য প্রমাণের জন্য মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) অ্যাডমিট কার্ড পাস সার্টিফিকেট-সহ জমা দিতে পারেন।

পাশাপাশি বুধবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাপ্ত, কিন্তু এখনও আপলোড না হওয়া যাচাই করা নথি ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যে ইআরও এবং এইআরও-র মাধ্যমে জুডিশিয়াল অফিসারদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট এদিন ফের স্পষ্ট করেছে, এসআইআরের প্রামাণ্য নথি হিসেবে ভোটারের জন্ম তারিখ ও অভিভাবকের তথ্য নিশ্চিত করার জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ও সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য। আদালত স্পষ্ট করেছে, যাঁরা মাধ্যমিকে ফেল করেছেন, তাঁদেরও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যেখানে লেখা থাকে যে পরীক্ষার্থী ব্যর্থ হয়েছে। তাই কারও ক্ষেত্রেই এই নথি সংগ্রহে কোনও অসুবিধে হবে না।


এছাড়া, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিষ্পত্তির কাজে জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘাটতি মেটাতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্ট প্রধান বিচারপতি কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশনের সিভিল জজদের নিয়োগ করবেন। প্রয়োজন হলে বর্তমান ও প্রাক্তন জুডিশিয়াল অফিসার, এমনকি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।

কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এসআইআরের কাজের জন্য নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের ছুটি বাতিল করেছে। সোমবার থেকে তাঁরা লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শুরু করেছেন, যা বুধবার পর্যন্ত তিন দিনে যথাযথভাবে চলেছে। প্রথমে লগ-ইন আইডি নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও, পরবর্তীতে সেই সমস্যা মেটে।

সুপ্রিম কোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ নেওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যে  ‘বিশ্বাসের অভাব’ দেখা দেয় এবং সেখান থেকে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত এই পদক্ষেপ করে।