আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার জেরে দেশে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে একটি ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দিতে সরকারের খরচ পড়ছে ১,৬০০ টাকারও বেশি। অথচ সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৯৪২ টাকা। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৭০০ টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার বড় অংশ বহন করছে কেন্দ্র সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম দ্রুত বেড়েছে। সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রোপেন ও বিউটেনের ৫০:৫০ মিশ্রণের দাম ছিল প্রতি টনে ৫৪২.৫০ মার্কিন ডলার। এপ্রিল মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭৫ ডলার এবং জুনে পৌঁছেছে ৭৯০ ডলারে।
এই সময়ে প্রোপেনের দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং বিউটেনের দাম প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের আমদানি ব্যয়ের উপর। মন্ত্রকের দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে একটি গৃহস্থালি সিলিন্ডারের আমদানি-নির্ভর সরবরাহ খরচ ১,৬০০ টাকার সীমা ছাড়িয়েছে।
সম্প্রতি প্রতি সিলিন্ডারে ২৯ টাকা দাম বাড়ানো হলেও দিল্লিতে ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য এখন ৯৪২ টাকা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (পিএমইউওয়াই) সুবিধাভোগীরা প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকার ভর্তুকি পাওয়ায় কার্যত ৬৪২ টাকায় গ্যাস পাচ্ছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষে গৃহস্থালি এলপিজিতে মোট আন্ডার-রিকভারি বা ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ৪১,৩৩৮ কোটি টাকা। এই ক্ষতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।
তবুও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভারতের এলপিজির দাম এখনও তুলনামূলকভাবে কম। দিল্লিতে যেখানে একটি সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা, সেখানে পাকিস্তানে ১,০৪৬ টাকা, নেপালে ১,২০৭ টাকা, বাংলাদেশে ১,২২৫ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় ১,২৪১ টাকা। উন্নত দেশগুলিতে এই দাম আরও বেশি।
সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের কোথাও গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। দেশীয় উৎপাদন ৬০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে এবং আমেরিকা, কানাডা ও আলজেরিয়ার মতো দেশ থেকে বিকল্প আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে সংকটের মধ্যেও গ্রাহকদের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।