‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রীত্ব যাবে না’, পডুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুলের কড়া বার্তা মোদীকে

LOP Rahul Gandhi Photo-ANI

শিক্ষামন্ত্রক থেকে সরানো হতে পারে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রিত্ব যাবে না। বদলি করা হতে পারে অন্য কোনও মন্ত্রকে। শনিবার রাজধানীর রাজপথে দাঁড়িয়ে এই দাবিই করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে পড়ুয়ারা যখন যন্তরমন্তরে আন্দোলন চরমে তুলেছে তখন এই দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারকে একহাত নিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘ভারতের অতীত’ বলে কটাক্ষ করে রাহুল বলেছেন, বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা এই দেশের ভবিষ্যৎ। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পরাজিত করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে প্রথম থেকে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এই দাবি না মানা হলে আলোচনা অনর্থক বলে শনিবার বিকেলের তৃতীয় দফার বৈঠকের আগে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি নেতৃত্ব। যদিও সূত্রের খবর, প্রবল চাপের মুখেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশেই থাকছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুতরাং তাঁর অপসারণের কোনও প্রশ্নই আসছে না।

অন্যদিকে শুক্রবার মাঝরাতে পড়ুয়াদের উদ্দেশে দ্বিতীয় ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগে যে ভিডিও পোস্ট করেছিলাম, তাতে আপনারা যেভাবে সাড়া, পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।’ কিন্তু বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে ককরোচদের প্রবল চাপে পড়ে অবশেষে ইস্তফা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর তাতেই জিতে গেলেন ককরোচরা। তাঁদের দাবি মান্যতা পেতেই জয়ে উল্লসিত ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। জেন-জির চাপ যে কার্যত নিতে পারল না কেন্দ্রীয় সরকার তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। তবে অন্য কোনও মন্ত্রকে ধর্মেন্দ্রকে সরানো হবে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। আর আন্দোলন এখানে থামবে না চলবে সেটাও ককরোচদের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।


তাছাড়া এদিন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন আন্দোলনকারী ছাত্র নেতৃত্ব। পরে তাঁদের পাশে নিয়েই ১০ জনপথের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল। সেখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে। এটাই সবার প্রথম দাবি। অনেকে বলছেন প্রধানকে অপসারণ করার পরিবর্তে অন্য কোনও মন্ত্রকে সরানো নিয়ে মোদী ক্যাবিনেটে আলোচনা চলছে। এমন হলে দেশের পড়ুয়ারা তা কোনওভাবেই মেনে নেবেন না। এমনকী কারও কাছেই তা গ্রহণযোগ্য নয়।’ আর পড়ুয়ারা ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন বলে মন্তব্য করে কংগ্রেস সাংসদের দাবি, ‘চিন্তা করবেন না। পুরো ভারত সরকার, সরকারের কেউ অথবা অন্য কোনও শক্তি আপনাদের এই পথ থেকে সরাতে পারবে না। ওরা যা খুশি করুক। ওরা যদি আপনাদের থামাতে বা হুমকি দিতে চায়, চেষ্টা করে দেখতে পারে। পিছু হটব না। এই ব্যবস্থাটি যিনি চালাচ্ছেন, তিনি হিন্দুস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাত জেগে ভিডিও বানান। এখন একটাই দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করা।’