আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সম্পত্তি ও আয়ের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিবিআই এবং ইডিকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ বাতিলের আর্জির পাশাপাশি মামলাটি দিল্লি হাইকোর্টে স্থানান্তরের আবেদনও জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। আগামী ১৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস ভিগনেশ শিশির রাহুলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁর দাবি, রাহুলের সম্পত্তি তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের আবেদন জানান তিনি। গত মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ সিবিআই ও ইডিকে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, অভিযোগের কোনও ভিত্তি রয়েছে কি না, তা আইন মেনে অনুসন্ধান করতে হবে। তদন্তে কোনও বেআইনি তথ্য বা নথি পাওয়া গেলে ইডি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে বলেও জানায় আদালত।
গত ২০ জুলাই মামলার শুনানিতে সিবিআইয়ের জমা দেওয়া হলফনামা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের অগ্রগতি ও অভিযোগের বিষয়গুলি যথাযথভাবে হলফনামায় তুলে ধরা হয়নি। তাই নতুন করে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট জোনের যুগ্ম অধিকর্তা বা সমমর্যাদার আধিকারিককে ব্যক্তিগতভাবে সেই হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিওপিটি, অর্থমন্ত্রকের রাজস্ব দপ্তর, কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক এবং সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকেও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার নথি সিল করা খামে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় শুনানি প্রকাশ্য আদালতকক্ষে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকোর্ট।
এবার সেই নির্দেশকেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন রাহুল। ১৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হতে পারে। এলাহাবাদ হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানি ২০ আগস্ট।