রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা পথে হাঁটল ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। রাশিয়া থেকে তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা দেশগুলিকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ভারত ও চিন। মার্কিন সেনেটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিলটি (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’)।
৮৬-১১ ভোটে বিল পাশ
মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’) পাশ হয়েছে। বিলের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে, ‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’। প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন সরব ছিলেন।
এখন বিলটি পাঠানো হবে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভসে। তবে কংগ্রেসের গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে সেপ্টেম্বরের আগে বিলটির (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’) উপর ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মার্কিন সেনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান জিম রিশের দাবি, এই পদক্ষেপ রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পথও তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর অর্থের জোগান বন্ধ করাই এই বিলের (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’) অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: আসামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮
কী রয়েছে বিলে?
বিলটির (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’) মূল লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি আটকানো। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্য, বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের উপর ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
এছাড়া রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের পাঁচ বড় আমদানীকৃত দেশের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতাও দেওয়া হতে পারে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের অন্যতম বড় ক্রেতা হাল ভারত ও চিন। পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়াও রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করে।
ভারতের জন্য কেন উদ্বেগের?
এই বিল (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’) কার্যকর হলে ভারতেরর জন্য বড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনে ভারত। সেই তেলের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে ভারতের তেল আমদানির খরচ বেড়ে যেতে পারে।
এর ফলে দেশের জ্বালানি বাজার, পরিবহণ খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতকে আমেরিকা ও রাশিয়া দুই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও সতর্কভাবে ভারসাম্য বজায় রাখতে হতে পারে।
তবে বিলটি (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’) এখনও চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি। সেনেটে পাশ হওয়ার পর এটি হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে যাবে। সেখানে পাশ হওায়র পরই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শুধু তেল নয়, নিশানায় রুশ প্রশাসনও
বিলটিতে (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ রুশ প্রশাসনের শীর্ষকর্তা, ধনী ব্যবসায়ী বা ‘অলিগার্ক’ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের একাংশ বিলটির (‘Lindsey O graham Sanctioning Russia And Iran Act of 2026’)সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার বদলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও বেশি করে শুল্ক ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে এবং শেষ পর্যন্ত এর আর্থিক বোঝা মার্কিন নাগরিকদের উপর পড়তে পারে।
দেখুন: প্রয়াণ দিবসে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানালেন রুদ্রনীল