টানা গুলির লড়াই, জম্মু-কাশ্মীরে এনকাউন্টারে নিহত লস্কর জঙ্গিনেতা

Photo: File Photo

জম্মু-কাশ্মীরে এনকাউন্টারে মৃত্যু হল লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিনেতা জাকির গানির। জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানে সেনার সঙ্গে এনকাউন্টারে এই জঙ্গিনেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে মীমানদার এলাকায় একটি জঙ্গলে সেনা ও পুলিশের যৌথবাহিনী তাঁর খোঁজ পায়। এরপরে সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

সেনা সূত্রের খবর, গত ৩ জুলাই থেকে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিনেতার খোঁজ করছিল সেনা ও পুলিশের যৌথবাহিনী। তাদের কাছে খবর আসে মীমানদার এলাকায় কয়েকজন জঙ্গি আশ্রয় নিয়েছে। এরপরেই পুলিশের যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তাঁরা তল্লাশি শুরু করেন। অভিযান চলাকালীন বুধবার সকালে পুলিশের যৌথবাহিনী জঙ্গিদের গোপন ডেরার হদিস পান।

সেনা সূত্রের খবর, জঙ্গিদের গোপন ডেরার হদিস পাওয়ার পরেই বাহিনী তা ঘিরে ফেলে। জঙ্গিদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সময়ে ওই গোপন ডেরাতে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিনেতা জাকির গানি ছিলেন। ওই গোপন ডেরায় জাকির গানির উপস্থিতির টের পেয়ে পুলিশের যৌথবাহিনী গুলি চালানো শুরু করে। পাল্টা জঙ্গিদের তরফেও গুলি চালানো শুরু হয়। দুপক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়।


সূত্রের খবর, বেশ কিছুক্ষণ এভাবে গুলির লড়াই চলার পরে পুলিশের যৌথবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় জঙ্গিনেতা জাকিরের। জানা গিয়েছে, জাকির গানি কুলগামের বাসিন্দা। তিনি দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাতেন। তাঁর নাম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির তালিকায় ছিল। পুলিশ খবর পাওয়ার পরেই মীমানদার এলাকায় জঙ্গিদের খোঁজ শুরু করে। তবে জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকা থাকার কারণে জঙ্গিদের খুঁজতে পুলিশের যৌথবাহিনীকে কিছুটা বেগ পেতে হয়। সেই সুযোগে জঙ্গিরা ওই এলাকায় আত্মগোপন করেছিল।

জানা গিয়েছে, টানা তল্লাশি চালানোর পরে বুধবার বাহিনী জঙ্গিদের গোপন ডেরার খোঁজ পায়। এরপরে তারা এলাকা ঘিরে জাকির গানিকে নিকেশ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে বেশকিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তবে তল্লাশি অভিযান বন্ধ হয়নি। পুলিশের যৌথবাহিনী এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। ওই এলাকায় যদি অন্য কোনও জঙ্গি লুকিয়ে থাকে, তাহলে তাকে যাতে খুঁজে পাওয়া যায় সেই জন্যই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।