কর্ণাটকে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটল। রাজ্যের নতুন কংগ্রেস বিধায়ক দল সিএলপির নেতা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হলেন ডিকে শিবকুমার। এর ফলে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশস্ত হল। আগামী ৩ জুন ডিকে শিবকুমার কর্ণাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
শনিবার বেঙ্গালুরুর বিধান সৌধে অনুষ্ঠিত সিএলপি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল, কর্ণাটক-প্রভারি রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা এবং দলের অন্যান্য বিধায়করা। বৈঠকে সিদ্দারামাইয়াই শিবকুমারের নাম নতুন নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেন। উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন। পরে উপস্থিত বিধায়করা সর্বসম্মতভাবে তা অনুমোদন করেন।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর ডিকে শিবকুমার রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিদ্দারামাইয়াও। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই রাজ্যপালকে সিএলপির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এদিকে কেসি বেণুগোপাল নিশ্চিত করেছেন যে সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগপত্র রাজ্যপাল গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবারই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। রাজ্য রাজনীতিতেই মনোযোগ রাখবেন বলেও জানিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।
সিএলপি বৈঠকে সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করে একটি বিশেষ প্রস্তাবও গৃহীত হয়। ২০১৩-১৮ এবং ২০২৩-২৬ মেয়াদে তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকা, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার এবং কংগ্রেসের আদর্শে নিষ্ঠার উল্লেখ করা হয় সেখানে।
অন্যদিকে বেণুগোপাল বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুব কংগ্রেস ও প্রদেশ কংগ্রেসের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পৌঁছেছেন শিবকুমার। তাঁর ভাষায়, ‘ডিকে শিবকুমার অবশেষে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কংগ্রেসের প্রতি তাঁর আনুগত্য ও নিরলস পরিশ্রমই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।’ সব মিলিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে কর্নাটকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে ৩ জুন।