শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে লাঠিচার্জ সমর্থনযোগ্য নয়, ছাত্র মিছিল নিয়ে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

Image: SNS

শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ প্রতিবাদ সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার। শুধুমাত্র কোনও বিক্ষোভ চলছে বলেই পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ  করতে পারে না বলে এদিনেরর মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। আদালত জানিয়েছে, যদি পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগ ওঠে, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োচজন। পাশাপাশি, বিক্ষোভ মোকাবিলায় সারা দেশে এক অভিন্ন প্রোটোকল তৈরির প্রয়োজনীয়তারর কথাও তুলে ধরেছে শীর্ষ আদালত।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলন শুরু করে।  ২০ জুলাই তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলো সংসদ কর্মসূচির ডাক দেয়। যন্তর মন্তর থেকে সাংসদ ভবনের দিকে মিছিল এগোতে শুরু করলে পুলিশ তা আটকে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং ছররা গুলি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার দু’দিন পর অর্থাৎ ২২ জুলাই এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পুলিশের লাঠি চালানোর ছবিও দেখার অনুরোধ করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি সে সময় আর্জি খারিজ করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না’। পরে এ নিয়ে সমালোচনা উঠলে,  তিনি ব্যাখ্যা দেন, এ ধরনের কোনও মামলা দায়ের হয়নি। তাই শুনানিরও প্রশ্ন ছিল না। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আবেদন জমা পড়ার পর সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে আদালত।


প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ শুনানিতে জানায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার এবং কেবলমাত্র বিক্ষোভ হচ্ছে, এই কারণে বলপ্রয়োগ সমর্থন করা যায় না। আদালতের মতে, যদি পুলিশ ক্ষমতারর অপব্যবহার করে থাকে, তবে তার স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

তবে আদালত এও  স্পষ্ট করেছে, যদি কোনও সমাজবিরোধী বা দুষ্কৃতী পরিস্থিতিকে অশান্ত করার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্ঘলা রক্ষায় পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই পারে।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছে। তাই শুধুমাত্র প্রতিবাদ হচ্ছে বলে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য শুধু দিল্লি নয়, গোটা দেশের জন্যই একটি অভিন্ন নীতিমালা থাকা দরকার।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই বিক্ষোভে কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। এই বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়। সুপ্রিম কোর্ট পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাও শুনতে সম্মতি জানিয়েছে।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, পুলিশকর্মী হোন বা আন্দোলনকারী- যে কোনও ব্যক্তির উপর হামলাই সমানভাবে উদ্বেগের বিষয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উপযুক্ত সরঞ্জাম কেন পর্যাপ্তভাবে দেওয়া হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী শুনানি মঙ্গলবার।