মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার। পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল লাদাখ। বৃহস্পতিবার লাদাখে প্রথম ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.৫। এরপর ফের ৪.৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় লেহ অঞ্চলে। পরপর ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ালেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৫ মিনিটে লেহ-তে প্রথম এবং শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয় লেহ অঞ্চলে।
দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৩। এই ভূমিকম্পেরও উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। দুটি ভূমিকম্পই লেহ অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। লাদাখ এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মধ্যে পড়ে। ফলে পরপর দুটি কম্পনই লেহ অঞ্চলে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের প্রভাব নির্ভর করে তার মাত্রা, গভীরতা, নির্মাণকাঠামোর শক্তির মতো বিভিন্ন বিষয়ের উপরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত ভূমিকম্প হতে পারে। গভীরতার ভিত্তিতে ভূমিকম্পকে সাধারণত অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর এই তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: গতির নেশা সর্বনাশা, মাত্র ২৪-এ দুর্ঘটনা প্রাণ কাড়ল মহিলা রাইডারের
বৃহস্পতিবারের দুটি ভূমিকম্পই ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এগুলি অগভীর ভূমিকম্পের পর্যায় পড়ে। অগভীর ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ভূকম্পন তরঙ্গকে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছতে তুলনামূলক কম দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। তাই অনেক সময় এই ধরনের ভূমিকম্পে ভূপৃষ্ঠে বেশি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।