নাসিকে নিজের স্কুলে দাঁড়িয়ে শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে সরব সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে (Justice PB Varale। মহারাষ্ট্রের সিংহস্থ কুম্ভ মেলা (Simhastha Kumbh Mela) ঘিরে সরকারি খরচ আর স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আক্ষেপ, এই দুই মিলিয়েই এখন তোলপাড় শিক্ষা মহল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন, কুম্ভের পরিকাঠামোয় বরাদ্দ টাকার সামান্য একটা অংশ যদি শিক্ষাখাতে ঢালা হত, তাহলে শতাধিক সরকারি মারাঠি মাধ্যম স্কুল বন্ধ হয়ে যেত না।
নিজের স্কুলে দাঁড়িয়েই বললেন
গত শনিবার, ২২ অগস্ট, নাসিকে নিজের স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বিচারপতি ভারালে। সেখানেই মারাঠি মাধ্যম স্কুলগুলোর করুণ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কুম্ভের পরিকাঠামোয় সরকার খরচ করছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা, আর একটি করিডর প্রকল্পে বরাদ্দ ১১ হাজার কোটি টাকা। এই খরচে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেই জানিয়েছেন বিচারপতি। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, কুম্ভের মোট বরাদ্দের মাত্র ০.১ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩২ কোটি টাকা যদি শিক্ষা খাতে দেওয়া যেত, তাহলে ১০০ থেকে দেড়শোর মতো মারাঠি স্কুলকে বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচানো সম্ভব হত।
কুম্ভের বাজেট
মহারাষ্ট্র সরকার কেন্দ্রকে জানিয়েছে, নাসিকের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনায় (Kumbh Mela Development Plan) মোট বরাদ্দ ২২,৪২৫.৩৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে এই পরিকল্পনায় সিলমোহর দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন অক্টোবরেই শুরু হচ্ছে এই সিংহস্থ কুম্ভ।
আবাসিক স্কুলের ভয়ঙ্কর ছবি
শুধু স্কুল বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ নয়, আবাসিক স্কুল বা আশ্রমশালাগুলোর অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি। তিনি জানান, একটি আশ্রমশালায় মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা তিন ছাত্রীর সাপের কামড়ে মৃত্যুর খবর পড়ে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, বহু আবাসিক স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতিই এখনও করুণ।
শিক্ষা বাজেটে কম
বিচারপতি ভারালের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, আগে মোট বাজেটের ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষায় ব্যয় হত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অনুপাত ক্রমশ কমে এসেছে। পরিকাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয় বলেই মত তাঁর।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে কেন গুরুত্বপূর্ণ
মারাঠি মাধ্যম স্কুলের এই সংকট আসলে গোটা দেশের আঞ্চলিক ভাষার স্কুলগুলোর একটা প্রতিচ্ছবি। পশ্চিমবঙ্গেও পড়ুয়া কমে যাওয়া, পরিকাঠামোর অভাব আর বাংলা মাধ্যম স্কুল নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ নতুন নয়। মেলা, উৎসব, ভাতা বা বড় প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ আর শিক্ষা খাতে বাজেট, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নটা তাই বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক। একজন প্রাক্তন বিচারপতির মুখে উঠে আসা এই তুলনা, দেশজুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। যা বহমান জিন-জি আন্দোলনের প্রেক্ষিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।