২ বছর আগে অশান্ত মণিপুরে গণধর্ষণের শিকার কুকি তরুণীর মৃত্যু

২০২৩ সালে উত্তপ্ত মণিপুরে এক কুকি তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। এক অভিশপ্ত রাতে দুষ্কৃতীদের হাতে গণধর্ষণের শিকার সেই মৃত্যুপথযাত্রী তরুণীর দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর মৃত্যু ঘটেছে। গত ১০ জানুয়ারি তাঁর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগ, ২০২৩ সালে ইম্ফল শহরে দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের পর কোনওমতে পালিয়ে এসে চিকিৎসা শুরু হলেও যৌনাঙ্গে গুরুতর ক্ষত-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

মানসিকভাবেও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন তরুণী। দীর্ঘদিন গুয়াহাটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পরও তিনি শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। মৃত্যু হয়েছে তাঁর।তরুণীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে ‘ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডার্স ফোরাম’ (আইটিএলএফ)।


নির্যাতনের পর এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তরুণী জানান, ঘটনার রাতে কালো পোশাক পরা চারজন তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ড্রাইভার ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় তিনজন তাঁকে ধর্ষণ করে। সারারাত অত্যাচার চলে, খাবার বা জল কিছুই দেওয়া হয়নি। পরদিন সকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার অজুহাতে তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এক অটোচালক তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

শোকে ভেঙে পড়েছেন নির্যাতিতা তরুণীর মা। তাঁর আক্ষেপ, ‘মেয়েটা বিচার পেল না। অত্যাচারের পর থেকেই শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। ওরা আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হন।