জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু করতে চলেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। সম্প্রতি জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ জঙ্গি সইফুল্লার মৃত্যুর পরেই গোটা জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা জঙ্গিদের সহায়তাকারী ‘ওভারগ্রাউন্ড’ কর্মীদের একটি বড় চক্র ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা জঙ্গিদের খাবার, আশ্রয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাহায্য জুগিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রে কয়েকজন সরকারি কর্মীও জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে পুরনো ছবি ও তথ্য খতিয়ে দেখছে, যেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, কিছু মানুষ ভয় বা চাপের কারণে জঙ্গিদের সাহায্য করলেও, অনেকেই স্বেচ্ছায় এই কাজে যুক্ত হয়েছে। ফলে এবার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে জননিরাপত্তা আইনে আটকও করা হবে।
গত কয়েক মাসে কিস্তওয়ারে জঙ্গি দমনে একাধিক সফল অভিযান চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, গত প্রায় এক বছরে সাতজন জইশ জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। শুধু গত কুড়ি দিনেই ছয়জন জঙ্গিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে অভিযানের জোরালো পদক্ষেপ বলে করা হচ্ছে।
সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবে এবং কোনওভাবেই তাঁদের ঘাঁটি গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না। সইফুল্লার মৃত্যুকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তাঁর নেতৃত্বেই গোটা নেটওয়ার্কটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে দাবি।
প্রশাসনের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে আরও বড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের হদিশ মিলতে পারে। সীমান্তের ওপার থেকে মদত পাওয়া এই কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করাই এখন লক্ষ্য।